এআইয়ের নতুন নাম দিলেন ট্রাম্প, ভুল বানান নিয়ে হাস্যরস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নতুন নামে ডাকার এক জমকালো উদ্যোগ নিতে গিয়ে মারাত্মক দাফতরিক ভুলের মুখোমুখি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কার্যালয় হোয়াইট হাউস। প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক হাইপ্রোফাইল বৈঠকের সময় প্রকাশিত একটি অফিশিয়াল দাফতরিক নথিতে দেশের নামেই দেখা গেছে বড় ধরনের বানানের ভুল। সেখানে ইংরেজি ‘United States’ শব্দের বদলে ভুলবশত লেখা হয়েছে ‘Unites States’।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ধারণার জোর প্রচার শুরু করেছেন, ঠিক তখনই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক ভুল প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতূহল ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই অপ্রত্যাশিত বানান ভুলটি সামনে আসতেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ইন্টারনেটে তা নিয়ে উপহাসের ঝড় ওঠে। সরকারি নথিতে এ ধরনের অস্বাভাবিক ত্রুটি নিয়ে কটাক্ষ করে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, প্রেসিডেন্ট অফ ইউনাইটস স্টেটস! ওহ দাঁড়ান, বুঝতে পেরেছি… তিনি আমাদের এক করতে বা ইউনাইট করতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ওই প্রশাসনকে নিশানা করে তিনি আরও লেখেন, যখন নেপথ্যে এমন অদক্ষ মানুষজন থাকেন, তখন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ একেবারেই মূল্যহীন। অন্য এক নেটিজেন ঠাট্টা করে মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প এখন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে আমাদের দেশের নাম বদলে ‘ইউনাইটস স্টেটস’ রেখে দেবেন। নথির ভুল বানানের দিকে ইঙ্গিত করে আরও এক ব্যক্তি রসিকতা করে বলেন, এই অতিরিক্ত ‘এস’ অক্ষরটি মূলত ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে প্রযুক্তি জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন টেসলা ও এক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং। এই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, মার্কিন সরকার এখন থেকে সরকারি যাবতীয় যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করবে। ট্রাম্পের মতে, এই প্রযুক্তির জন্য ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি কোনোভাবেই উপযুক্ত নয়, কারণ এই প্রযুক্তি মোটেই কৃত্রিম কিছু নয়।

বৈঠকে প্রযুক্তিটির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি খাত যা ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ব্যবস্থার চেয়েও বহুগুণ বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে তার প্রশাসন মার্কিন ফেডারেল সংস্থাগুলোকে দাফতরিক নথি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কেবল ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এসআই’ ব্যবহার করার স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এই বিশেষ বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থাগুলোকে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে তা নির্ধারণ করা।

বৈঠক শেষে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই সাংবাদিকদের জানান, এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো তাদের প্রচলিত করপোরেট শাসন পদ্ধতি প্রয়োগ করবে, যা সাধারণত আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে তারা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যেমনটা কোম্পানির অন্যান্য ক্ষেত্র কিংবা আর্থিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে করা হয় এবং সুপার ইন্টেলিজেন্সের বিকাশেও সেই সুপরিচিত সর্বোত্তম চর্চাগুলো নিয়ে আসা হচ্ছে।

একই সুর মিলিয়ে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এআই নিরাপত্তায় তাদের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত এই সমঝোতা বা চুক্তির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি পরীক্ষা, বাহ্যিক নিরীক্ষা পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে স্বাধীন পর্যালোচনা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights