ফ্লাইদুবাইয়ের মালিক কে, নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
অনলাইন ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইদুবাই পুরোপুরি দুবাই সরকারের মালিকানাধীন। ২০০৮ সালে দুবাই সরকার ‘দুবাই এভিয়েশন করপোরেশন’-এর মাধ্যমে বিমান সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ফ্লাইদুবাই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৩১টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ফ্লাইদুবাইকে প্রায়ই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেক শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এমিরেটসের ‘লো-কস্ট সিস্টার ক্যারিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে দুটি বিমান সংস্থা আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। মালিকানার দিক থেকে অবশ্য তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। উভয় বিমান সংস্থার চূড়ান্ত মালিক দুবাই সরকার। ফ্লাইদুবাইয়ের মালিকানা দুবাই সরকারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব দুবাই’ (আইসিডি)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে যাত্রা শুরু
দুবাইয়ের বিমান পরিবহন খাতে আরও একটি বিকল্প ও তুলনামূলক কম খরচের বিমান সংস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ২০০৮ সালে ফ্লাইদুবাই প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি দুবাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে।
ফ্লাইদুবাইয়ের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে বিমান সংস্থাটি দুবাইয়ের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এমিরেটসের সঙ্গে সম্পর্ক কী?
ফ্লাইদুবাই ও এমিরেটসকে অনেক সময় একই গ্রুপের দুটি বিমান সংস্থা হিসেবে মনে করা হলেও তারা পৃথক প্রতিষ্ঠান। এমিরেটস মূলত পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ব্যবসায়িক মডেল তুলনামূলকভাবে কম খরচের বিমান পরিবহনের ওপর কেন্দ্রীভূত।
তবে উভয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানার চূড়ান্ত উৎস একই- দুবাই সরকার। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব দুবাইয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকার ফ্লাইদুবাইয়ের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে ফ্লাইদুবাইকে এমিরেটসের ‘সিস্টার ক্যারিয়ার’ বলা হলেও দুটি বিমান সংস্থা তাদের নিজস্ব কাঠামো ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বোয়িং ৭৩৭-নির্ভর বহর
বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ বহর মূলত বোয়িং ৭৩৭-এর বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে গঠিত। এই ধরনের উড়োজাহাজ সাধারণত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিস্তৃত গন্তব্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে এই বহরকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে বিমান সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চল ছাড়িয়ে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন শহরের সঙ্গে দুবাইয়ের সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
নিরাপত্তা রেকর্ড
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের নিরাপত্তা রেকর্ড মোটের ওপর স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ২০১৬ সালের মার্চে বিমান সংস্থাটির একটি ফ্লাইট দুর্ঘটনার শিকার হয়, যা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটটি দুবাই থেকে রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন যাচ্ছিল। অবতরণের চেষ্টা করার সময় মাটির কাছাকাছি প্রবল বাতাস ও দুর্বল দৃশ্যমানতার মধ্যে উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে উড়োজাহাজে থাকা ৬২ জন যাত্রী ও ক্রু- সবাই নিহত হন।
দুর্ঘটনাটি ফ্লাইদুবাইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হলেও এরপরও বিমান সংস্থাটি আন্তর্জাতিক রুটে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
সব মিলিয়ে, ফ্লাইদুবাই একটি স্বতন্ত্র বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও এর মালিকানা সরাসরি দুবাই সরকারের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দুবাইয়ের বিমান পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে ১৩১টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সূত্র: সিএনএন
