কেন হঠাৎ মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প?

অনলাইন ডেস্ক

মশার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা; এ যেন এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায়! ওয়াশিংটন ডিসির বাতাসে এখন কেবল রাজনীতি নয়, ভেসে বেড়াচ্ছে মশা নির্মূলের কড়া হুঁশিয়ারি। ফ্লোরিডায় যখন ডেঙ্গু জ্বরের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে গর্জে উঠলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন জনগণকে মশা আর টিকের উৎপাত থেকে রক্ষা করতে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এক ঐতিহাসিক নির্বাহী আদেশে।

ঘটনার সূত্রপাত ফ্লোরিডা রাজ্যের এক অস্বাভাবিক স্বাস্থ্য সংকটকে কেন্দ্র করে। ফ্লোরিডার ছয়টি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে হিলসবরো কাউন্টিতে পরিস্থিতি এতটাই গভীর যে, ইতিমধ্যেই ১৭০টিরও বেশি স্থানীয়ভাবে সংক্রামিত ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সেখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত আর অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুবাহী ‘এডিস এজিপ্টি’ মশা বংশবৃদ্ধি করে চলেছে এক অনিয়ন্ত্রিত গতিতে। ক্যারিবীয় অঞ্চল বা দক্ষিণ আমেরিকার মতো ট্রপিক্যাল এলাকায় যা স্বাভাবিক, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে তা দেখা দেওয়ায় চারদিকে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। তিনটি কাউন্টিতে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু ওয়াচডগ হয়ে বসে থাকেননি। তিনি সোজা নিশানা করেছেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির মশা ও টিকের বংশকে। নির্বাহী আদেশে অভ্যন্তরীণ সচিব ডাগ বারগাম এবং কৃষি সচিব ব্রুক রলিন্সসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আগামী ষাট দিনের মধ্যে এক বিশাল অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য, ডি.সি. অঞ্চলের ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক প্রজাতির মশার ৯টি ধরনকে ধ্বংস করা! কেবল মশাই নয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের ক্ষতিকর পোকা ‘টিক’-এর সংখ্যাও অর্ধেকে নামিয়ে আনার এক কঠিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের বার্তা একদম পরিষ্কার, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হবে সুন্দর, নিরাপদ এবং মশামুক্ত। ফেডারেল মালিকানাধীন জমিগুলোতে যেখানেই পানি জমে মশা কিংবা টিকের প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদক্ষেপে অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। কোনো সাধারণ রাসায়নিক ছিটিয়ে সাময়িক সমাধান নয় বরং পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন মার্কিন প্রশাসন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং নতুন নতুন উদ্ভাবকদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই অদৃশ্য শত্রুকে নির্মূল করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: নিউজউইক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights