দাম বেড়েছে ডিম-সবজির

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডিমের দামও ডজনে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

গতকাল রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক হালি ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির খাবার ও ওষুধের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি মৌসুমের এ সময়ে গরম ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় মুরগির ডিম উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। এসব কারণে বাজারে ডিমের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।

খিলক্ষেত বাজারের ক্রেতা শাহিন আলম বলেন, ডিম অনেক পরিবারের নিয়মিত খাবার। মাছ বা মাংসের দাম বাড়লে অনেকেই ডিম দিয়ে খাবারের ঘাটতি পূরণ করেন। কিন্তু এখন ডিমের দাম বাড়ায় সেই সুযোগ কমে যাচ্ছে। বাজারের ডিম বিক্রেতা শরিফুর রহমান বলেন, ডিমের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। পাইকারি বাজারে যে দামে ডিম আসে, তার সঙ্গে পরিবহন ও দোকানের অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়। সরবরাহ কমে গেলে বা পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত খুচরা বাজারে পড়ে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজি এখনো বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১৬০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, ধুন্দল ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। বাজারে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতি কেজি, বড় রুই প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, মাঝারি কাতলা ৪০০ টাকা এবং বড় কাতলা ৪৫০ টাকা। বড় তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২৪০ টাকা এবং পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। চাষের চিংড়ি আকারভেদে ৭০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, ‘মাছ পরিবহনে গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। এতে আড়তে কিছুটা দাম বেড়েছে। আমাদেরও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও সবজির দাম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। বগুড়া ব্যুরো থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। গতকাল রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনি ও খান্দারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। তবে সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ২০০ টাকা। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, তরী ৮০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, বইকচু ৬০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মুরগির বাজারে দামে তেমন পরিবর্তন নেই। মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও বেশ চড়া। রুই মাছ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ছোট দেশি মাছের দামও ক্রেতার নাগালের বাইরে। রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, শালবাগান, শিরোইল, বিনোদপুর ও নওদাপাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামে দেখা গেছে ভিন্নতা। কোনো কোনো সবজির কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকায়।

বাজারের দেওয়া দর অনুযায়ী, আলু ২০-২৫ টাকা, পিঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা এবং করলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকায়। এ ছাড়া পটোল ৪০, ঢ্যাঁড়শ ৩০ থেকে ৪০, ঝিঙা ৩০, মুলা ৩০ থেকে ৪০, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ এবং বরবটি প্রায় ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights