নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে রাজারহাটে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, জনসম্মুখে অধ্যক্ষের পদত্যাগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ০৪.১০.২০২৬
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীহাট সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় চারটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা মাঠে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। কর্মসূচিতে বক্তারা মাদ্রাসার চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার মানবণ্টনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৫০ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে তাঁদের দাবী । এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তারা মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত বা পুনর্গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির কোনো সদস্যকে ভবিষ্যতে কমিটিতে না রাখার দাবিও তোলেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল উন্নয়ন নিয়েও বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রণয়ন, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার আগে প্রশ্নের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়ার মতো অনিয়ম বন্ধ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কর্মসূচি চালুর দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা দাবি করেন, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির ১৪ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে,তার মধ্যে মাত্র তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁদের হিসাবে পাসের হার ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
বিক্ষোভ চলাকালে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মাদ্রাসার টিআর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান সাজুর ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তাঁদের দাবির মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তবে নিয়োগ বাণিজ্যের পাঁয়তারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি তা গ্রহণ করেনি। এবার এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিক্ষোভকারীদের সম্মুখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
মানববন্ধনে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম, বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. দুলাল সরকার, প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসিসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রাক্তন ছাত্র সালমান ফারসি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসাটিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্ণপাত হলে তিনি আগামী ৫ অক্টোবর উপজেলা কার্যালয়ে সকলকে নিয়ে বসার আশ্বাস প্রদান করেন।
#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights