এইচআইভির ওষুধের সংকট প্রকট হচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক সাহায্য হ্রাসের ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এইচআইভি (এইডস) প্রতিষেধক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট। আন্তর্জাতিক পরিকল্পিত পিতৃত্ব সংস্থা আইপিপিএফ-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে ৪০টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, গত বারো মাসে দেশের সেবা প্রদানকারী অর্ধেকেরও বেশি বা ৫৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনো সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র ঘাটতিতে পড়েছে। বিশেষ করে এইচআইভি নির্ণয়ের র্যাপিড টেস্ট কিট এবং প্রাক-সংক্রমণ প্রতিরোধক ওষুধ বা প্রিপ-এর সরবরাহ একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে।

আইপিপিএফ আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মালা তাবোত বিষয়টিকে চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে এবং সরবরাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ঠিক কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এ সংকট তারই প্রমাণ দিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে এইচআইভি মোকাবিলায় যে অগ্রগতি হয়েছে, কেবল পণ্যের ঘাটতির কারণে তা নস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না। এটি কোনো দূর ভবিষ্যতের হুমকি নয় বরং এখনই এই সংকট শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে এবং মানুষের জীবনহানি ঘটছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষার কিটের সংকট সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারী প্রায় সব সংস্থা এইচআইভি পরীক্ষা সেবা চালু রাখলেও ১৭টি সংস্থায় বর্তমানে এর স্টক অত্যন্ত কম এবং ৫টি সংস্থায় কোনো টেস্ট কিটই অবশিষ্ট নেই। ফলে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এখন নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা সেবা দিতে পারছে না। একই সাথে ১২টি সংস্থা মুখে খাওয়ার এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়ার প্রিপ ওষুধের তীব্র ঘাটতির কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি আরব বিশ্ব, এশিয়া ও ওশেনিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে কনডম এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির মতো মৌলিক উপকরণগুলোর সরবরাহও অত্যন্ত অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

আইপিপিএফ-এর এইচআইভি বিষয়ক উপদেষ্টা লোরি মিলার মন্তব্য করেন, রোগীদের কাছে পৌঁছানোর মতো প্রয়োজনীয় ক্লিনিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এবং মানুষের আস্থা; সবকিছুই তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর রয়েছে। তবে উপকরণ ও পণ্যের এই অনিয়মিত সরবরাহ তাদের পুরো প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।

উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বজুড়ে আনুমানিক চার কোটি নয় লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। ওই এক বছরেই এইডসজনিত জটিলতায় পাঁচ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ১২ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি সাহায্য তহবিলে প্রায় ২৩ শতাংশ কাটছাঁট করায় ২০২৫ সাল থেকেই বিশ্বজুড়ে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক এই অর্থায়ন সংকটের কারণে এইচআইভি মহামারী নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে গত জুন মাসেই সতর্ক করেছিল জাতিসংঘ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights