ম্যানগ্রোভ বাগান দখল, কেটে ফেলা হলো ৫ শতাধিক কেওড়া ও ছৈলা গাছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বন বিভাগের জমি দখল করে তরমুজক্ষেত তৈরির উদ্দেশ্যে ম্যানগ্রোভ বাগানের ৪০০ থেকে ৫০০ গাছ এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি বিটের আওতাধীন দক্ষিণ চরবিশ্বাস ম্যানগ্রোভ বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দক্ষিণ চরবিশ্বাসের বাসিন্দা মো. শাহিন হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আ. বারীক।

রবিবার বন বিভাগ ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা রেঞ্জের চর আগস্তি ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরবিশ্বাস গ্রামসংলগ্ন সংরক্ষিত বনের পাশে ৭৫ হেক্টর জমিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করা হয়।

গত শনিবার বিকেলে স্থানীয় শাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে মো. ফরুক, মো. আজাদ তালুকদার, মো. রহিমসহ ৮-১০ জন এক্সকাভেটর দিয়ে ওই বাগানে তরমুজ চাষের জন্য বেড়িবাঁধ তৈরি করছিলেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ সময় শাহিন হাওলাদারসহ অন্যরা বনকর্মীদের দিকে তেড়ে এসে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তারা বনকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক্সকাভেটর দিয়ে ম্যানগ্রোভ বাগানের ৪০০ থেকে ৫০০টি কেওড়া ও ছৈলা গাছ ধ্বংস করা হয় বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

বন বিভাগের গলাচিপা বিটের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আ. বারীক বলেন, ‘এই চরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বন বিভাগ ম্যানগ্রোভ গাছের বাগান সৃজন করে। স্বাভাবিক বন পাহারার অংশ হিসেবে বনের মধ্যে এক্সকাভেটর দিয়ে বাঁধ দিতে দেখলেই আমরা বাধা দিই। ঘটনার দিন খবর পেয়ে আমরা তাদের বাধা দিই। কিন্তু তারা আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন, মো. শাহিন হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বন বিভাগের তদন্ত চলছে। বন ধ্বংসের ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ম্যানগ্রোভ বাগান ধ্বংস করার অভিযোগে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা চারজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights