ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ব্লুমবার্গ

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত, নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সমীকরণ ও পরিকল্পনাকে চরম জটিলতার মুখে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলার পরও দেশটির প্রতিরোধ ও পুনরায় অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য এখনো অটুট রয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান তার শক্তিশালী পাল্টাহামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দেশটির ভেতরে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সুবিধা থাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আবার পূর্ণ করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। ফলে কেবল সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলবিদদের হিসাব-নিকাশ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সাম্প্রতিক দাবিগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি ফুটিয়ে তোলে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক শিল্প সক্ষমতা এবং পুরো প্রতিরক্ষা ভিত ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বারবার দাবি করে আসছেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত অপর এক পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধ বিরতির সুযোগে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র অর্ধেকেরও বেশি পুনর্গঠন করেছে এবং পূর্বের মজুতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্লুমবার্গের এই সাম্প্রতিক মূল্যায়নটি ওয়াশিংটনের সেই সব দাবির সত্যতাকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights