নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইট উৎপাদন, ৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সাভারে বায়ুদূষণের কারণে ইটভাটার কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও ইট উৎপাদনের অভিযোগে তিন ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব ইটভাটায় উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সিআইডির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মামলার আসামিরা হলেন মো. জাকির হোসেন, মো. আবু বকর ও কাওছার আহমেদ। তাঁদের বিরুদ্ধে পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন এবং সেই অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাভার থানায় মামলাগুলো করা হয়েছে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকির হোসেন ‘মেসার্স এ বি এন অ্যান্ড কোম্পানি’র স্বত্বাধিকারী। আবু বকর ‘মেসার্স এম এইচ এস স্টার’ ও ‘মেসার্স এম এইচ বি স্টার কোং’-এর স্বত্বাধিকারী। আর কাওছার আহমেদ ‘মেসার্স এ আই এম ব্রিকস কোং’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট চারটি ইটভাটার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পরও ইট উৎপাদন
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, সাভার এলাকার বায়ুর বার্ষিক দূষণমাত্রা নির্ধারিত মানের প্রায় তিন গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে সাভার থেকে বায়ুদূষণ ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর বায়ুমানেরও অবনতি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ বা মারাত্মক বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার সব ইটভাটায় ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
সিআইডির দাবি, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে অবৈধভাবে ইট উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। এভাবে উৎপাদিত ইট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে।
পরিবেশগত অপরাধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ
সিআইডি বলছে, পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে তার প্রকৃত উৎস গোপন করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) অনুযায়ী অপরাধের আওতায় পড়ে। এ-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধানও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে উৎপাদিত ইটের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই অর্থ পরিবেশগত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তবে তিন কোটি টাকা ইটের বাজারমূল্য; এটি পুরোপুরি মানিলন্ডারিংয়ের অর্থ হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি। মামলাগুলোর তদন্তের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধনকারী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনাই এ অনুসন্ধানের লক্ষ্য। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত অন্যান্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
