ভারত থেকে ২০০ প্যাসেঞ্জার কোচ পচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, প্রথম ধাপে এলো ১৮টি
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবা আরও সম্প্রসারণে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ আমদানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানের মোট ১৮টি প্যাসেঞ্জার কোচ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) থেকে এই প্রথম রেল কোচ সরবরাহ করা হয়।
ভারতীয় রেলওয়ের অন্যতম প্রধান রপ্তানি সংস্থা আরআইটিইএস (রাইটস) লিমিটেড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় রেল প্রযুক্তির এই মাইলফলকের কথা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি তাদের সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে এই ১৮টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ পাঠানোর ঘটনা রাইটসের বিশ্বব্যাপী রপ্তানিযাত্রায় একটি অনন্য ও গৌরবান্বিত নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এটি একই সাথে বিশ্বমানের উৎপাদন উৎকর্ষ এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পাদিত সর্বমোট ২০০টি ব্রডগেজ রেল কোচ সরবরাহের এই বৃহৎ চুক্তির অধীনে প্রথম চালানে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, ৩টি এসি চেয়ার কোচ, ২টি এসি স্লিপার কোচ এবং ২টি এসি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ও বহুমুখী ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে এই পাওয়ার কারগুলোর মধ্যে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং সাধারণ যাত্রীদের মালামাল বা লাগেজ বহনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের দীর্ঘ ভ্রমণের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে আসন ব্যবস্থায় আনা হয়েছে বিশাল আধুনিকতা। কোচগুলোতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা রেক্লাইনিং চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট রয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা তাদের সুবিধামতো বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল বা পজিশনে হেলান দিয়ে বসতে পারবেন।
এছাড়াও যাত্রীবাহী এই কোচগুলোতে অত্যাধুনিক ও জনবান্ধব একাধিক বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত এসি কোচে ফ্যান থাকে না, তবে বিশেষ তাপদাহ ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এখানকার এসি কোচগুলোতেও ফ্যানের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে সমন্বিত সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলার সুবিধাযুক্ত বিশেষ উইন্ডো বা জানালা এবং বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত বেবি কেয়ার রুম ও সুনির্দিষ্ট প্রার্থনার কক্ষ।
বাংলাদেশের রেল চলাচলের সুনির্দিষ্ট এবং বিশেষ অপারেটিং পরিস্থিতির কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে এই নতুন কোচগুলোর ছাদের অবকাঠামোগত গঠনকে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবের সময় বিপুল সংখ্যক যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠে যাতায়াত করে থাকেন। ছাদে যাত্রীদের এই অতিরিক্ত শারীরিক ও ভার বহন করার সামর্থ্য প্রদান করতেই ছাদের স্ট্রাকচারকে বিশেষভাবে দৃঢ় ও মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে।
৯১৫ কোটি রুপির এই বিশালাকার প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ বহরকে নতুন কোচের মাধ্যমে আধুনিকায়িত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবর ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে সবকটি ২০০টি কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে এবং আশা করা যাচ্ছে যে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই সম্পূর্ণ চুক্তির সবকটি চালানের সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
