তাইজে সংঘর্ষে ২০০ হুথি যোদ্ধা হতাহতের দাবি ইয়েমেন সেনাবাহিনীর
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। বুধবার দিনভর চলা সংঘর্ষে হুতিদের সামরিক যান, ট্যাংক ও একটি ড্রোনও ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা।
তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার সকাল থেকে প্রদেশটির পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্ট এবং দক্ষিণে আল-আকরুদ ও আল-শাকাব ফ্রন্টে তীব্র লড়াই শুরু হয়। বিকেলের দিকে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
আল-মিসরাখ জেলার রাস আল-নাজদ এলাকায় হুতিদের ট্যাংক ও সামরিক যানবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া, বুধবার ভোরে তাইজ শহরের পূর্বে সোফিতেল পাহাড়ের কাছে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে শহরের পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্টে একটি ট্যাংক ও একটি সামরিক যান লক্ষ্য করেও আরও দুটি বিমান হামলা চালানো হয়। দিনভর সংঘর্ষে হুথিদের ২০০ জনের বেশি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন। এছাড়া তাদের একটি সামরিক যান ধ্বংস, দুটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত, একটি ড্রোন ভূপাতিত এবং একটি সশস্ত্র যানবহর ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। হুথি বিদ্রোহীরাও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করা এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনে পরিচালিত এ অভিযানের পর ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সংঘর্ষ বেড়েছে। বিশেষ করে তাইজে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী এবং হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। পরে ২০১৫ সালে সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাইজে সর্বশেষ সংঘর্ষের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু
