মার্কিন সহায়তা বন্ধের জবাবে রুশ তেল শোধনাগারে পুনরায় হামলার ঘোষণা জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধের জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা শুরু করার কথা ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওয়াশিংটনের অনুরোধে ইউক্রেন তিন দিনের জন্য রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখলেও রাশিয়া উল্টো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ চালিয়ে গেছে উল্লেখ করে জেলেনস্কি সাফ জানিয়েছেন, ‌‘আমাদের আর সহ্য করার কোনো কারণ নেই।’

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মস্কোর ওপর থেকে হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রুশ হামলা সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান (গোয়েন্দা তথ্য) বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতিও ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দিলে জেলেনস্কি তা মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন, কিন্তু রাশিয়া সেই প্রস্তাব ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের শত শত হাজার মানুষকে বিদ্যুৎহীন করে ফেলে। তবে মস্কো কখনোই এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানায়নি।

লন্ডন সফরে থাকা জেলেনস্কি বুধবার সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে আলাপকালে স্বীকার করেন, ওয়াশিংটনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে তিনি নিজেকে গভীরভাবে প্রতারিত বোধ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ না করলে তারা আগাম সতর্কতামূলক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন। ইউক্রেন তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সতর্কবার্তার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তা ছাড়া ইউক্রেন সেনার ড্রোন পরিচালনা ও রণক্ষেত্রের যোগাযোগে ব্যবহৃত ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল বলে মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। পরবর্তীতে ইলন মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, প্রতিরক্ষা বিভাগের চুক্তিভুক্ত এই সিস্টেমের গতি নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরই সিদ্ধান্ত।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করে জেলেনস্কি জানান, মস্কোর যুদ্ধের অর্থ জোগানোর প্রধান উৎস রুশ তেল অবকাঠামোয় হামলা তারা কেবল তখনই থামাবেন, যদি ওয়াশিংটন তাদের আরও বেশি ‘প্যাট্রিয়ট’ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে। ইরানে যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউক্রেন বর্তমানে চরম ক্ষেপণাস্ত্র-সংকটে ভুগছে।

জেলেনস্কি আরও সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনের মতো স্বৈরাচারী নেতাদের প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির যে চুক্তি ট্রাম্প করেছেন, তা প্রকৃতপক্ষে ক্রেমলিনের যুদ্ধ তহবিলেই বিনিয়োগের শামিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এমন অভূতপূর্ব টানাপোড়েন পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন ও জটিল মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights