ফেস ফিল্টার ব্যবহার করে অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউ, তারপর যা ঘটল

অনলাইন ডেস্ক
ডিজিটাল যুগের আধুনিক প্রযুক্তির যেমন অসীম সুফল রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও কম নয়। সম্প্রতি রিমোট বা দূরবর্তী কাজের জন্য চলা একটি অনলাইন চাকরির ইন্টারভিউতে ঘটা এক অবাক করা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

আমেরিকার মিশিগানের এক রিক্রুটার অভিনব কায়দায় ধরে ফেলেছেন এক ‘ডিপফেক ক্যান্ডিডেট’-কে, যিনি রিয়েল-টাইম ফেস ফিল্টার বা কৃত্রিম মুখের অবয়ব ব্যবহার করে ইন্টারভিউ দিতে বসেছিলেন। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চাকরি নিয়োগের প্রক্রিয়া কতটা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাই তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

মিশিগানের বাসিন্দা জেসন নামক ওই রিক্রুটার সম্প্রতি রিমোট পদের জন্য প্রার্থী বাছাই করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল, তবে প্রথম থেকেই ওই প্রার্থীর আচরণ ও চেহারায় কিছুটা সন্দেহজনক কিছু একটা লক্ষ করেছিলেন তারা। জেসন জানান, এটি তার পেশাগত জীবনে দেখা প্রথম কোনো ডিপফেক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি ধরতে না পারলেও তার এক সহকর্মী প্রার্থীর চেহারার অসংগতি প্রথম লক্ষ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি শেয়ার করে জেসন লেখেন, ইন্টারভিউ চলাকালীন তার সহকর্মী খেয়াল করেন যে প্রার্থীর চশমাটি কিছুটা অদ্ভুত দেখাচ্ছে এবং তার গালের চারপাশে একটি দ্বিতীয় ঘোলাটে অবয়ব বা ছায়া ভেসে উঠছে। প্রার্থীর এই অস্বাভাবিকতা দেখে তারা বুঝতে পারেন যে ওই ব্যক্তি পুরো ইন্টারভিউজুড়েই একটি লাইভ ফেস ফিল্টার ব্যবহার করে নিজের আসল চেহারা লুকিয়ে অন্য একজনের ছদ্মবেশ ধারণ করে আছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা গেছে, জেসন হঠাৎ করেই ইন্টারভিউ থামিয়ে ওই প্রার্থীকে তার মুখের সামনে হাত নাড়ানোর অনুরোধ জানান। বিখ্যাত রেসলার জন সিনার জনপ্রিয় ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ বা তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ না ভঙ্গিতে হাত নেড়ে দেখাতে বলেন তিনি। কিন্তু প্রার্থীর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি ধরা পড়ে গেছেন, কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সঠিক উপায়ে হাত নাড়াতে অস্বীকৃতি জানান।

জেসন যখন তাকে সরাসরি নিজের মুখের সামনে হাত রাখতে বলেন, তখন ওই প্রার্থী হাতের পাতাটি মুখের সামনে না রেখে ঠিক কানের পাশে বা মুখের একটু পাশে সরিয়ে রাখেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি নির্দেশমতো হাত সামনে রাখেননি।

জেসন আরও জানান যে ওই প্রার্থীর আসল চেহারার সঙ্গে তার লিংকডইন এবং গিথাব প্রোফাইলের ছবির কোনো মিল ছিল না। বর্তমান এআই-এর যুগে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে ভবিষ্যতে হয়তো বাধ্য হয়েই সমস্ত ইন্টারভিউ সরাসরি বা সশরীরে অফলাইনে করতে হবে।

এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রতারক প্রার্থীর আসল পরিচয় বা লিঙ্ক প্রকাশ করার দাবি জানান। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, একজন স্ক্যামারের গোপনীয়তা রক্ষার কোনো মানে হয় না, কারণ তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় এমনিতেই ভুয়া হতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রার্থীর এই মরিয়া প্রচেষ্টাকে কিছুটা কৌতুকের ছলে নিলেও, বেশির ভাগ মানুষই রিক্রুটারের বিচক্ষণতা এবং বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights