পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পীরগাছায় বসুন্ধরা শুভসংঘের তালবীজ বপন
অনলাইন ডেস্ক
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুরের পীরগাছায় তালবীজ বপন কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে পীরগাছা উপজেলার আমতলী বাজার থেকে সাতদরগা বাজারের মাঝামাঝি সড়কের পাশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের পীরগাছা উপজেলা শাখার উদ্যোগে তালবীজ বপন করা হয়।
তালগাছ বাংলাদেশের প্রকৃতির এক পরিচিত অনুষঙ্গ। দীর্ঘজীবী এই গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ লাগানোর বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া তালগাছের শিকড় মাটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং গাছের পাতা, ফল ও অন্যান্য অংশ মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর কাজে লাগে। গ্রামীণ পরিবেশে তালগাছের উপস্থিতি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও উপকারী।
বর্তমানে নানা কারণে গাছপালা কমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়কের পাশে ও উপযুক্ত খালি জায়গায় তালবীজ বপনের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তালগাছ ধীরে ধীরে বড় হলেও একবার বেড়ে উঠলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। তাই এখন তালবীজ বপন করা গেলে ভবিষ্যতে তা পরিবেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ পীরগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. নাহিদ হাসান, সহসভাপতি বাধন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলিফ মিয়া ও প্রচার সম্পাদক মো. লিটন মিয়া। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও উপস্থিত ছিলেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। তালবীজ থেকে চারা গজানো এবং সেগুলো বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ থাকলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।
প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তালগাছের প্রয়োজনীয়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
