পূজার ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতজুড়ে উৎসবের আমেজ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমেছে। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের নোনা জলে সাঁতারের পাশাপাশি হৈ-হুল্লোড়ে মেতেছেন। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আবার ইজিবাইক, ওয়াটার বাইক ও মোটরসাইকেলেসহ বিভিন্ন বাহনে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন মার্কেট, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকি পল্লী, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি ও লাল কাকড়ার চরসহ বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখছেন। মোটকথা পুরো সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের ভিড়ে বুকিং রয়েছে হোটেল মোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ। বেচা বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট ৫ দিনের ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ৪ লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটক ফরিদ উদ্দিন বলেন, পূজার লম্বা এই ছুটিতে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছেন। তারা সৈকতের জিরো পয়েন্ট এবং ঝাউবাগান এলাকাসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেছেন। সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে বাচ্চারা। বালু নিয়ে ওরা খেলায় মেতেছে। এখানের সমুদ্রের গর্জন এবং প্রাণ প্রকৃতি সবই ভালো লেগেছে। এবারের ভ্রমণ আমাদের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

পর্যটক সায়মা দম্পতি বলেন, সৈকতের ঢেউ, পরিবেশ এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বেশ ভালোই লেগেছে।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল মোটেল ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। পূজার বন্ধ এবং পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের ইনচার্জ নাজমুল হাসান বলেন, আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দুর্গাপূজার তিনদিনের ছুটি রয়েছে। ফলে আগামী শনিবার পর্যন্ত কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটক অবস্থান করবে। কুয়াকাটাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটে আলাদা করে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights