সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে তোলপাড়

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর কোথাও সংবাদ সম্মেলন, কোথাও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির নেতা-কর্মী, বঞ্চিত আবেদনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি দলের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

১০ অক্টোবর হালুয়াঘাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্ত ও বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। একই দিন ধোবাউড়া প্রেস ক্লাবে সাত ইউনিয়নের নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি নেতা ও জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা। ১২ অক্টোবর গৌরীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিয়োগের তালিকা বাতিল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান পৌর কৃষকদলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী। সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর ফুলপুর গোলচত্বরে ভাইটকান্দি ইউনিয়নের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ ৯ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াসহ কয়েকটি উপজেলার ইউনিয়নে ফ্যাসিবাদের দোসরদের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেন। নিয়োগের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদও সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন। তিনি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার ৭৪৪টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে ডিলারশিপ দেওয়ার কথা রয়েছে। হালুয়াঘাটের শাকুয়াই বাজারে মেসার্স সালমান ইসলামিয়া স্টোরের নামে সার ডিলারশিপ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হোসাইন আহম্মদ সালমান আগে খুচরা সার বিক্রেতা ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে সালমানের দাবি, নিয়ম মেনেই তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, খুচরা ডিলারশিপ বাতিলের কোনো আবেদন তার কাছে জমা পড়েনি। ফুলপুরের ভাইটকান্দি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়া মেসার্স সাদিকা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত হোসেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার ও ধান-চালের ব্যবসায়ী। প্রকৃত সার ব্যবসায়ী না হয়েও কীভাবে তিনি ডিলারশিপ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তবে সাখাওয়াতের দাবি, নীতিমালা অনুসরণ করেই তিনি নিয়োগ পেয়েছেন।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা অনুসরণ করেই ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক আবেদনকারী থাকায় সবাইকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights