পাঁচ জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ১৪ জনের, আহত ৩৯
অনলাইন প্রতিবেদক
দেশের পাঁচ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাত পর্যন্ত ফরিদপুর, নাটোর, যশোর, মুন্সীগঞ্জ ও বগুড়ায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং পুলিশের একজন এসআই রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের পাঠানো তথ্যে এসব খবর উঠে এসেছে।
ফরিদপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ৬
শুক্রবার ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন স্বেচ্ছাসেবী এবং বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে ও এক ইজিবাইকচালক রয়েছেন।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ইজিবাইক ও প্রাইভেটকারকে চাপা দেয়। এতে সুমি বেগম (৩২), তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে শাওন এবং ইজিবাইকচালক হাসান শেখ (২৭) নিহত হন।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতুর কাছে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন। তাঁরা ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর মাগুরা দলের সদস্য রাব্বি মোল্লা, নূর মোহাম্মদ ওরফে আরিক এবং ঐশী খাতুন।
নাটোরে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার থানা মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মিঠুন আলী (৪০) নামের এক বাসের সহকারী নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা তাবাসসুম পরিবহনের বাসটির সংঘর্ষ হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩
শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের নতুনহাট মোড়ের কাছে বড় মেঘলা এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
নিহতদের মধ্যে সিয়াম হোসেন ও আরিফুল ইসলাম জয়ের পরিচয় পাওয়া গেছে। তৃতীয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মুন্সীগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩
শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এতে তিনজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হন।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায় বাসটি। নিহতদের মধ্যে রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত
শুক্রবার রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে প্রাইভেটকারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বিভাজকে ধাক্কা লাগে। এতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এসআই গোলাম রব্বানী (৩৬) নিহত হন।
ছুটি শেষে নিজ জেলা রংপুর থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
