প্রতিষ্ঠার এক যুগেও চালু হয়নি

সঞ্জয় কুমার দাস, পটুয়াখালী

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার একযুগেও চালু হয়নি রোগীর সেবা কার্যক্রম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২৫ লাখ মানুষ। বর্তমানে লিফট স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। জনবল কাঠামোয় পদ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে জানালেন প্রকল্প পরিচালক। এটি চালু হলে জেলাসহ পাশের বরগুনা জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে মনে করছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী।

জানা যায়, ২০১৪ সালে একনেকে ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। তখন পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কম্পাউন্ডের সিসিউ ভবনে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। পরে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর বৈদ্যুতিক সংযোগ উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আরও এক দফা সময় বাড়ে। এরই সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬৫১ কোটি টাকা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলমান হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে রোগীর চাপ বেড়েছে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যাসংকট। কোথাও একটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে থাকতে হচ্ছে, আবার তাদের সঙ্গে থাকছেন স্বজন। এতে এক রোগীর সংক্রমণ অন্য রোগীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীর চাপ দিন দিন বেড়েই চলছে। ১ হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিতে আসেন। ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। এতে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

দশমিনা উপজেলা থেকে জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছে আট মাসের শিশু আদিল। মা হাবিবা আক্তার বলেন, শিশুটির অনেক জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছি। ডাক্তার বলেছেন নিমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে একটি বেডে দুই থেকে তিনজনকে থাকতে হচ্ছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপে বেডের সংকটের পাশাপাশি ওয়ার্ড ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটি বেডে একাধিক রোগী থাকায় চিকিৎসার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম এ জাহিদ অপু বলেন, ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক এ হাসপাতালটির কাজ প্রায় শেষ। লিফট স্থাপনের কাজ চলছে। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শেষ হবে। হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ডাক্তার এস এম কবির হাসান বলেন, বহুল প্রতিক্ষিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৮ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন জনবল কাঠামো তৈরিতে পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়ছে। জনবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হলেই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. জিয়াউল করিম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ২৯৭ জনের একটি জনবল পদ সৃষ্টের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি দ্রুতই হাসপাতালটি চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights