বরিশালে এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৭৪ জন।
শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, নানা কারণে পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি, শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণে উদাসীনতা, কোচিংনির্ভর হয়ে পড়া এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, এবারের ফলাফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রশ্নের ধরন পরিবর্তনে বিপাকে শিক্ষার্থীরা:
ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাবিয়া। তিনি বলেন, গত ২০ বছরের তুলনায় এবার পাসের হার খুবই কম। আমরা যে পরিশ্রম করিনি, তা নয়। অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী আশানুরূপ ফল হয়নি।
নিজের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তাবিয়া বলেন, গত ১০ বছরের প্রশ্নের ধরন এবং এবারের প্রশ্নের ধরনে অনেক পার্থক্য ছিল। আমরা পুরোনো প্রশ্নের ধরন অনুসরণ করে অনুশীলন করেছি। কিন্তু পরীক্ষায় সেই প্রস্তুতির সঙ্গে প্রশ্নের মিল খুঁজে পাইনি।
শিক্ষকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। তবে হঠাৎ করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী এসে পুরো প্রশ্নপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবেন, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। নতুন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়েছে, যেখানে আগের অনেক কিছুই আর কার্যকর ছিল না।
নতুন শিক্ষাব্যবস্থাকে ভালো উল্লেখ করে তাবিয়ার দাবি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগে শিক্ষাব্যবস্থাটি যথাযথভাবে সাজানো উচিত ছিল। এরপর পরীক্ষায় কড়াকড়ি আরোপ করা যেত।
পাশের হার:
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভাগের ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৭৫৫ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ১৫৭ জন। মোট পাস করেছেন ২৫ হাজার ৯৭০ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে ১১ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ হাজার ৭৭৫ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৩৫ জন।
মানবিক বিভাগে ৪০ হাজার ৪৮৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১৬ হাজার ৯৮৩ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬১ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ৪৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২১২ জন। পাসের হার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৪ জন।
ছাত্রীদের পাশের হার বেশি:
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। এ বছর ৩২ হাজার ৪৮৭ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১৬ হাজার ৫০৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬০৭ জন। অন্যদিকে ২৮ হাজার ১৫৬ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৯ হাজার ৪৬৫ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৪৩ জন।
পাসের হারে শীর্ষে পিরোজপুর:
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর জেলা। সবচেয়ে কম পাসের হার ঝালকাঠি জেলায়। জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিরোজপুরে পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বরিশালে ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বরগুনায় ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ভোলায় ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পটুয়াখালীতে ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ঝালকাঠিতে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি:
এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পটুয়াখালী ও ভোলায় তিনটি করে, পিরোজপুর ও বরগুনায় দুটি করে এবং ঝালকাঠিতে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরগুনার কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাথরঘাটার হোগলাপাশা কলেজ; ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ, লালমোহনের রমাগঞ্জ সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ভোলা সদরের মেদুয়া কলেজ; পটুয়াখালীর গলাচিপা বিপিসি সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ ও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ; পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঝালকাঠির নলছিটির অ্যাডভোকেট এইচআরকে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজ।
