ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল রাশিয়া
অনলাইন ডেস্ক
অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মস্কো সরাসরি উৎপাদকদের মাধ্যমে ডিজেল এবং সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
অনুমোদিত ক্ষেত্র বা উৎপাদকদের ক্ষেত্রে ডিজেল জ্বালানি রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়ান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর মন্ত্রীপরিষদ নিশ্চিত করেছে যে এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি সামুদ্রিক জ্বালানি এবং গ্যাস অয়েলের ওপরও প্রযোজ্য হবে। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরাসরি উৎপাদকদের রাশিয়া থেকে ডিজেল, সামুদ্রিক জ্বালানি এবং গ্যাস অয়েল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহকারী নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুবিধা নিয়ে কাজ করছে, যা নভেম্বরের মধ্যেই কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রাশিয়ান জ্বালানির সরবরাহ ফিরিয়ে আনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় মস্কো।
এর আগে অক্টোবরের শুরুতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ সম্পর্কিত একটি চুক্তির পর রাশিয়ান সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেয়।
নোভাক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নভেম্বরে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ বেড়ে ২১ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে, যা অক্টোবরে ছিল মাত্র ৫ লাখ ১০ হাজার টন। ফলে নির্ধারিত সরবরাহে একটি বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। তবে সর্বশেষ এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সরাসরি উৎপাদকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যদিও সরকার মনোনীত নির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
