হজমশক্তি ভালো রাখতে পারে প্রতিদিনের এই ৫ অভ্যাস

অনলাইন ডেস্ক

সুস্থ থাকতে যেমন শরীরের অন্যান্য অঙ্গের যত্ন নেওয়া জরুরি, তেমনি প্রয়োজন হজমশক্তি ও অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন এলেও হজমের সমস্যা সব সময় বার্ধক্যের কারণে হয় না। বরং অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং মানসিক চাপের কারণেও দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে হজমশক্তি ভালো রাখা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি সহজ উপায়।

১. নিয়মিত ওষুধের বিষয়ে সতর্ক থাকুন

অনেক সময় বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। কিছু ব্যথানাশক, বিষণ্নতার ওষুধ ও রক্ত পাতলা করার ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক ও কিছু অম্লনাশক ওষুধের কারণে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া।

শুধু ওষুধ নয়, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ও মাছের তেলের সম্পূরক গ্রহণেও পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা পাতলা পায়খানার সমস্যা হতে পারে। তাই নতুন কোনো ওষুধ বা সম্পূরক গ্রহণের পর হজমের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

২. মানসিক চাপ কমাতে গভীর শ্বাস নিন

মানসিক চাপের প্রভাব শুধু মস্তিষ্কে নয়, সরাসরি পড়তে পারে পরিপাকতন্ত্রেও। মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। এ কারণে উদ্বেগ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার সময় অনেকের পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বদহজম কিংবা মলত্যাগের অনিয়ম দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে এসব সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কার্যকর হতে পারে। আরাম করে বসে এক হাত পেটের ওপর রাখুন। এরপর নাক দিয়ে ধীরে তিন থেকে ছয় গণনা পর্যন্ত শ্বাস নিন। শ্বাস নেওয়ার সময় পেট প্রসারিত হতে দিন। এবার মুখ দিয়ে একইভাবে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১৫ মিনিট এই অনুশীলন করলে মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৩. খাবারের তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান

হজমশক্তি ভালো রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খাদ্যআঁশ। এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি অন্ত্রে উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধি ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে খাদ্যআঁশ।

ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, ওটস এবং লাল আটার রুটিতে প্রচুর খাদ্যআঁশ পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাবারে এসব উপাদান রাখার অভ্যাস করুন।

সাদা চাল ও ময়দার পরিবর্তে লাল চাল, লাল আটা এবং অন্যান্য পূর্ণশস্য বেছে নেওয়াও ভালো। তবে হঠাৎ করে খাদ্যআঁশের পরিমাণ বাড়াবেন না। ধীরে ধীরে বাড়ান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে গ্যাস ও পেট ফাঁপার অস্বস্তি কম হতে পারে।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক। শরীরে পানির ঘাটতি হলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়।

খাদ্যআঁশ অন্ত্রে পানি শোষণ করে মল নরম রাখতে সাহায্য করে। তাই আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

৫. প্রতিদিন হাঁটুন, শরীর সচল রাখুন

দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

হজমশক্তি ভালো রাখতে হাঁটা বেশ সহজ ও কার্যকর একটি অভ্যাস। প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুটা সময় হাঁটুন। পাশাপাশি যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো হালকা ব্যায়ামও করতে পারেন।

সূত্র: ইউনাইটেড হেলথকেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights