অতীতে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার বড় হাতিয়ার ছিল পরিসংখ্যান : তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অতীতে পরিসংখ্যানকে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা। কিন্তু অতীতে মিথ্যা বলার হাতিয়ার হিসেবে পরিসংখ্যানকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের একটি বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করা জরুরি।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সরকার তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিসংখ্যান তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করা।

অতীতের পরিসংখ্যানের অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা একসময় ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের তথ্যের ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়, অতীতে কীভাবে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন, আবার যাঁদের পাওয়ার কথা নয়, তাঁরাও সুবিধা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের ভুল কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীকে চিহ্নিত করাও এর লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওপেন ডাটা পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে অন্যদের দেওয়া ভুল ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারকে কঠিন যাত্রা উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights