অনলাইন ভার্সন হৃদয় জয় করা এক শিল্পী

অনলাইন ডেস্ক

সুইডেনকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম সাংবাদিকদের কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরেই বলেছিলেন, দলের কোনো খুঁত থাকলে তা খুঁজে বের করতে। তবে ফরাসি কোচের সেই আহ্বানের পর সমালোচনার বদলে দলটিকে নিয়ে চারদিকে এখন শুধুই প্রশংসার জোয়ার। রক্ষণভাগের ছোটখাটো কিছু ভুল বাদ দিলে, আসরের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে ফরাসীরা। বিশেষ করে দলের আক্রমণভাগের দুর্দান্ত বোঝাপড়া যেন দলের বাকি সব ঘাটতি পুষিয়ে দিচ্ছে। নিউইয়র্কে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন এমবাপ্পে।

তবে ফরাসি গণমাধ্যম ও সমর্থকদের মাঝে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম মাইকেল অলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড চলতি বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল পাননি কিন্তু তার খেলার শৈলী এবং অ্যাসিস্টের জাদু পুরো ফ্রান্সকে মুগ্ধ করেছে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টের পর ফরাসি পত্রিকা ‘ল্য ফিগারো’ অলিসেকে হৃদয় জয় করা এক শিল্পী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ‘ল্য পারিসিয়ান’ তাকে অভিহিত করেছে সুখ ছড়ানোর অফিসিয়াল পরিবেশক হিসেবে এবং লেকিপ তাকে সর্বজনীন দাতা বলে প্রশংসা করেছে।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব একটা আসেন না এবং তার ফরাসি ভাষাও পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি ফরাসিদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। গ্রুপ পর্বের মাঝপথেই এক জরিপে ২৫ শতাংশ দর্শক তাকে দলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নেন। ২০২৪ সালে থিয়েরি অঁরির অলিম্পিক দলের হাত ধরে ফরাসি ফুটবলে পা রাখা অলিসে এখন দেশম যুগের অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক রূপকার হয়ে উঠেছেন। চলতি টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন পাঁচ, যেখানে বিশ্বকাপের সর্বকালীন রেকর্ডটি লিওনেল মেসির দখলে (নয়টি অ্যাসিস্ট)।

সুইডেন ম্যাচে অলিসের একটি দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সতীর্থের এমন দুর্ভাগ্য নিয়ে অধিনায়ক এমবাপ্পে বলেন, অলিসে গোল না পেলেও মাঠে এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দেয় যা দেখতেই দর্শকরা স্টেডিয়ামে আসেন। কোচ দেশমও অলিসের কাজের গতি ও রক্ষণাত্মক অবদানের প্রশংসা করে তাকে এমবাপে কিংবা ওসমানে দেম্বেলের কাতারেই রাখছেন। দেশমের মতে, অলিসে স্বভাবগতভাবে কিছুটা অন্তর্মুখী হলেও মাঠের ভেতর সে অন্য এক রূপ ধারণ করে।

ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই চমৎকার বোঝাপড়া তাদের চার ম্যাচে ১৩টি গোল এনে দিয়েছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার ফরাসিদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, যা কোচ দেশমকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ১৯৯৮ সালের স্মৃতিতে। সেবার অধিনায়ক হিসেবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের গোল্ডেন গোলে জয় পেয়েছিল দেশমের ফ্রান্স। আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়াতে প্যারাগুয়ের কঠিন রক্ষণভাগের মুখোমুখি হওয়ার আগে দেশম অবশ্য সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তবে ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বাস, বর্তমান ফরাসি দলের যে আক্রমণাত্মক ধার, তাতে জালের দেখা পেতে ১৯৯৮ সালের মতো অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না তাদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights