অ্যাডহকে বন্দি ক্রীড়াঙ্গন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাফুফে ভাঙা সম্ভব হয়নি। নির্বাচিত কমিটি হটালে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার শাস্তি পেত। আর শাস্তি মানেই বাংলাদেশের ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা। ২০০২ সালে এমন শিক্ষা তো পেয়েছিল। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্যান্য ফেডারেশনের কমিটি বিলুপ্ত হলেও ফুটবলে হাত দেওয়া সম্ভব হয়নি। ক্রিকেট বোর্ড ভাঙা হলেও তা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির নিয়ম মেনে। তৎকালীন বিসিবির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন দেশ ছেড়ে চলে যান। পরে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে ফারুক আহমেদ নতুন সভাপতি হন। অন্য পরিচালকরা দায়িত্ব ছাড়লে তাদের জায়গায় নতুনরা আসেন। এর পর চলতি বছরে আমিনুল বুলবুল নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন।

বছরের আলোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নারী কাবাডি বিশ্বকাপের আয়োজন -ফাইলফটোআওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। যা এখনো চলমান। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁঁইয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে সার্চ কমিটি গঠন করেন। নির্বাচিত কমিটি হলেও অভিযোগ ছিল প্রকৃত সংগঠকদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী সমর্থকদের ফেডারেশনগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসানো হয়েছে। এটাও ঠিক ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ আমলে ক্রীড়াঙ্গনে অনিয়ম ছিল। বিভিন্ন খেলায় সাফল্য এসেছে ঠিকই তবে দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছিল।

সার্চ কমিটির কাজ ছিল নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে যোগ্য ও ত্যাগী সংগঠকদের বাছাই করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা। তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলা হয় ফেডারেশন, জেলা সংস্থাগুলো। বলা হয়েছিল খেলাধুলায় ফ্যাসিস্টের কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। সার্চ কমিটি আবার একাধিকবার বৈঠকও করে। পরে নাম বাছাই করে তা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা চূড়ান্ত হয়। এভাবেই ফ্যাসিস্ট হটানোর তৎপরতা শুরু হয়। প্রশ্ন হচ্ছে ফ্যাসিস্ট বিদায় নিলেও ক্রীড়াঙ্গনে কী গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে? যোগ্য সংগঠকরা কি দায়িত্ব পেয়েছেন? কথা তো ছিল অ্যাডহক কমিটি ভালোমতো কাজগুলো গুছিয়ে ফেডারেশনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। ২০২৪ সাল গেল, ২০২৫ সালও শেষ পর্যায়ে। বছরজুড়েই ফেডারেশনগুলো অ্যাডহকে বন্দি। ফ্যাসিস্ট বিদায় জানিয়েও যদি গণতন্ত্র না আসে তাহলে আর লাভ হলো কী?

অ্যাডহক কমিটি গঠনের তো প্রায় ১৫ মাস হতে চলল, ফেডারেশনগুলোয় কী প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে? যদি বলা হয় সবকিছু থমকে গেছে তাহলে কী ভুল বলা হবে? সে ধরনের প্রাণ চাঞ্চল্যতা দেখা যাচ্ছে না। বরং ঢিমেতালে চলছে ক্রীড়াঙ্গন। ফ্যাসিস্টের কোনো চিহ্ন রাখা হবে না।

কিন্তু সার্চ কমিটির প্রধানই তো ছিলেন আওয়ামী সরকার থাকা আমলে এক ফেডারেশনের সহসভাপতি। যদিও পরে তিনি সার্চ কমিটি ছেড়েছেন। কিন্তু ঘুরে-ফিরে ক্রীড়াঙ্গন অ্যাডহকে বন্দি। হ্যাঁ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হয়েছে। কিন্তু এ নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। হকিতে অ্যাডহক কমিটি হওয়ার পর এখনো প্রিমিয়ার লিগ মাঠে নামাতে পারেনি। জুনিয়র বিশ্বকাপে অভিষেকটাই হকির বড় প্রাপ্তি। ঘরোয়া হকি তো অন্ধকারে হারাতে বসেছে।

আর্চারি ফেডারেশন ঢাকায় এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করলেও এ খেলাতেও কোনো গতি নেই। কাবাডি কিছুটা সক্রিয়। তারা নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের পাশাপাশি মোটামুটিভাবে ঘরোয়া আসরে ব্যস্ত রয়েছে। হ্যান্ডবল তো আগে ১২ মাসেই ব্যস্ত ছিল, অ্যাডহক আসার পর কি তা আছে? ভলিবল, কুস্তি, জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং, তায়কোয়ান্দো, উসু, রাগবি সবই তো একই অবস্থা। ব্যাডমিন্টন জাতীয় আসর করলেও লিগ নামাতে পারেনি। অ্যাথলেটিকস ও সাঁতার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ করলেও প্রাণের ছোঁয়া লাগেনি। তাই প্রশ্ন একটা- অ্যাডহকের জট খুলবে কবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights