আয়েশ করে চাকরি করার দিন শেষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারকদের আয়েশ করে চাকরি করার সুযোগ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যেসব জেলায় মামলার চাপ বেশি, সেখানে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন বিচারকদের পদায়ন করা হবে। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। মাত্র ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে এত মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তবে বিচারকদের আন্তরিকতা ও সক্রিয়তা বাড়লে এক বছরের মধ্যেই অনেক মামলা নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, কোনো কোনো আদালত মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিচারকরা যদি আয়েশ করে চাকরি করতে চান, তাঁদের এমন জায়গায় পদায়ন করা হবে, যেখানে আয়েশ করে চাকরি করা যাবে। বিচারব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহার করে রায় লেখা বা সাক্ষ্য-জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের কণ্ঠ ও পরিচয় নিখুঁতভাবে নকল করার প্রযুক্তি বিচারপ্রক্রিয়ায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচারকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। তিনি বলেন, কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার ঝামেলা কমাতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম আরও বিকশিত করা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া ডিজিটাল করা গেলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তিও ত্বরান্বিত হবে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তিতে ৩০ জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হয়েছে। এতে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি। আদালতের ওপর চাপ কমাতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আদালতে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও অসঙ্গতি ও উন্নয়নের পরামর্শ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
