ইউটিউব দেখে সাফল্য

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের প্রতি ছিল হান্নান সরকারের গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। একদিন সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে দুম্বা পালনের ভিডিও দেখে আগ্রহ হয় তাঁর। সেই আগ্রহ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে কিনে আনেন চারটি দুম্বা। এরপর সঠিক যত্ন, পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে কয়েক বছরে দুম্বা পালনে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পান তিনি। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খামার পাথুরিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন একটি দুম্বার খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে অর্ধশতাধিক দুম্বা। গত কোরবানির ঈদে এ খামার থেকে বিক্রি করেছেন ৬২টি দুম্বা। আকার ও গঠনভেদে প্রতিটি দুম্বা বিক্রি করছেন ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। দুম্বার পাশাপাশি তাঁর খামারে রয়েছে ছোট জাতের গরু, বিদেশি ছাগল, গাড়লসহ প্রায় চার শতাধিক প্রাণী। এদিকে হান্নানের দুম্বা পালন সাফল্য দেখে এলাকার অনেক যুবক এক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তার খামার থেকে দুম্বা কিনে তারা ছোট পরিসরে শুরু করেছেন নিজেদের খামার। জানা গেছে, হান্নান সরকার প্রথম দিকে দুতিনটি ছাগল পালন শুরু করেন। এরপর শুরু করেন গরু, ভেড়া ও গাড়ল পালন। ২০১৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেন দুম্বার খামার। ৩২ বিঘা জমির ওপরে গড়ে উঠেছে হান্নানের এই খামার। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন দুই ভাই আনোয়ার ও ফেরদৌস। খামার শ্রমিক সাঈম জানান, দুম্বা মরুভূমির প্রাণী হলেও আমাদের দেশের গরু, ছাগলের মতো সব খাবার খায়। এদের রোগবালাই হয় খুব কম। খুবই শান্ত প্রকৃতির প্রাণী এটি। এদের পরিচর্চা করে খুব ভালো লাগে। বাড়তি কোনো যত্নের প্রয়োজন হয় না। শরীরের লোম বড় হলে মাঝে মাঝে কেটে দিতে হয়। খামারের আরেক শ্রমিক জানান, হান্নান ভাইয়ের খামারে অনেক বছর থেকে কাজ করছি। দুম্বার দেখাশোনা করছি। আগে কখনো দুম্বা দেখা হয়নি। এখানে এসে প্রথম দুম্বা দেখা। খামারি হান্নান সরকার জানান, বাবার মৃত্যুর পর প্রাইমারি স্কুলে পড়া অবস্থায় বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ছাগল ও গরু পালন শুরু করি। পাশাপাশি অন্য বিদেশি প্রাণী পালনে আগ্রহ হন। এরপর ইউটিউবে ভিডিও দেখে দুম্বা পালন সম্পর্কে জানতে পারি। এটি পালন অনেক সুবিধা। বিশেষ করে এ প্রাণীর রোগ খুবই কম। এরপর চারটি দুম্বা দিয়ে খামার শুরু করেন। গরুর চেয়ে দুম্বা পালন লাভজনক। একটি গরুর খাবার খরচ দিয়ে ৮ থেকে ১০টি দুম্বা পালন করা যায়। খড় ও ভুসি এবং তাজা ঘাসের মাধ্যমে সহজে পালন হয় দুম্বা। গত কোরবানি ঈদে প্রায় ৬২টি বিক্রি করেছি। নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ ডা. মো. সেলিম উদ্দীন জানালেন, দুম্বা শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক স্থানে পালন হচ্ছে। এটা পালন খুব লাভজনক। নাটোরের গুরুদাসপুরে বড় পরিসরে দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights