ইউরোপজুড়ে সিলেটি পণ্যের চাহিদা, নেই প্যাকিং হাউস

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেটের জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে কিছু কৃষিপণ্যের চাষ হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘গোয়ালগাদ্দা শিম’, নাগা মরিচ, খাসিয়া পান, তইকর, ডেফল, ফরাশ ও শিমের বিচি, লালমাটির মুখিকচু ও লতি, জারা লেবু, আদালেবু, সাতকরা, কমলা, মাল্টা, আনারস, তরমুজ ও লুকলুকি। এসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। সিলেটি প্রবাসী ছাড়াও বাঙালিদের মধ্যে এসব ফল ও সবজির চাহিদা বেশি। বিদেশে বাঙালি অধ্যুষিত সুপারশপগুলোতেও এসব পণ্যের ব্যবসা ভালো। কিন্তু সুযোগের পরেও সিলেট থেকে এসব পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। রপ্তানির জন্য ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে কার্গো কমপ্লেক্স। কিন্তু একটিমাত্র প্যাকিং হাউসের অভাবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। যদিও এ প্যাকেজিংয়ের সুযোগ নিয়ে একদল ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুরে অবস্থিত প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে রপ্তানি করছে। কিন্তু এখান থেকে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়ে গেছে। ফলে অনেকেই বাদ দিয়েছেন কৃষিপণ্য রপ্তানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটে প্যাকিং হাউস নির্মিত হলে বছরে এ অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।

সিলেট থেকে একসময় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা জাতের কৃষিপণ্য রপ্তানি হতো। বিশেষ করে এ অঞ্চলে উৎপাদিত সাইট্রাস জাতীয় ফল, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিজ পণ্যের বাজার রয়েছে বহির্বিশ্বে। সিলেটের প্রবাসীরাই হচ্ছেন এসব পণ্যের মূল ক্রেতা। রপ্তানির এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় অত্যাধুনিক কার্গো কমপ্লেক্স। কিন্তু ‘প্যাকিং হাউস’ না থাকায় সিলেট থেকে কোনো কৃষিজ পণ্য রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। প্যাকিং হাউসে আটকে যায় রপ্তানি সম্ভাবনা।

ব্যবসায়ীরা জানান, একসময় বাংলাদেশ বিমানের সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটে এসব কৃষিপণ্য রপ্তানি হতো। পরে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। কিন্তু প্রায় দুই দশক আগে সাইট্রাস জাতীয় ফলে ‘ক্যাংকার্স’ নামক ভাইরাস ধরা পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় রপ্তানি। এরপর থেকে শ্যামপুরের প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে মাননিয়ন্ত্রণ ও প্যাকিং করে সিলেটে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এ অঞ্চলের রপ্তানিকারকরা। বর্তমানে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকলেও শুধুমাত্র প্যাকিং হাউস না থাকায় পণ্য রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্যাকিং করে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে হয়। এরপর পণ্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুরের প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে রপ্তানি করতে গিয়ে সিলেটের ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ বেড়ে যায়। সিলেটে প্যাকিং হাউস হলে বছরের অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, সিলেটের ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে প্যাকিং হাউস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights