ইরাক থেকে সৌদি আরবে যৌথ হামলা চালাচ্ছে হুথি?
অনলাইন ডেস্ক
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এবার ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্যের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এই যৌথ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল কারখানাগুলো। ওই অঞ্চলই দেশটির অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় লেবানন থেকে ইরান পর্যন্ত এই সামরিক অক্ষের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা এখনও মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে বড় ধরণের আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।
হামলার জেরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরাকের বেশ কিছু ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব হামলার জন্য ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করলেও, হুথিরাও পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এই অভিযানগুলো মূলত ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইরাকি ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হয়েছে। হামলার পর ইরান-পন্থী প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি, ইরাকি যোদ্ধা এবং অন্তত একজন হুতি সদস্যের প্রাণহানির খবর প্রচার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি হ্রাস পাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সামরিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইরাক নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও সৌদির সঙ্গে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় ইরাককে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে গোষ্ঠীগুলো।
ইরাক থেকে পরিচালিত এসব কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশীদের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে বাগদাদকে তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জের ধরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সৌদি আরবে তাঁর পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।
