ইরান যুদ্ধ: আমিরাতের শেয়ার বাজার থেকে হাওয়া ১২০ বিলিয়ন ডলার
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই এবং আবুধাবির শেয়ার বাজার সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন হারিয়েছে।
যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক বাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতের বাজারগুলো এখন তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ের সূচক ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক ৯ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট জেনারেল ইনডেক্স থেকে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং আবুধাবির এডিএক্স জেনারেল ইনডেক্স থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন বিলীন হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও বাহরাইনের বাজারেও মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হলেও সৌদি আরব ও ওমানের পুঁজিবাজার এই সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে অস্পষ্ট বার্তার কারণে ওয়াল স্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধের কারণে দেশটির আকাশপথ এবং পর্যটন খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটন খাত আমিরাতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হওয়ায় এবং গত বছর এই খাত থেকে বড় অঙ্কের আয় হওয়ায় বর্তমান স্থবিরতা কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্রের মর্যাদা বৃদ্ধির পথে এটি একটি বড় ধাক্কা হলেও তারা একে সাময়িক হিসেবেই দেখছেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন দুবাইয়ের অধ্যাপক হায়থাম আউন মনে করেন এই ধস মূলত বিনিয়োগকারীদের সাময়িক আস্থার সংকট, যা দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত কোনো ক্ষতি নয়। তার মতে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা শুধু সংকটের পারফরম্যান্স দিয়ে বিচার করা হয় না বরং তাদের রেগুলেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০৩৩ সালের মধ্যে দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটিতে পরিণত করার যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্ডিন হিকক আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান হলেই দুবাই ও আবুধাবির বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যাবে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা এবং মূলধনের সহজলভ্যতা অপরিবর্তিত থাকায় দীর্ঘমেয়াদে আমিরাতের পুঁজিবাজারের আকর্ষণ বজায় থাকবে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
