ইরানের হামলায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, কুয়েত ও সৌদি আরবের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে পিছু হটার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিকাঠামো হয়তো আর মেরামতও করা হবে না।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অবস্থানরত বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গতকাল তাদের নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। ধ্বংসের এই বিশাল ধাক্কা পেন্টাগনের যুদ্ধের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই খরচ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
সংবাদপত্রটির বিশ্লেষণে জানা গেছে, মোট ২৪টি ঘাঁটির মধ্যে ২৭৪টি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহেই অন্তত ১৩টি ঘাঁটির ১১৯টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের জবাবে তেহরান পাল্টা এই আঘাত হেনেছিল, যার পর থেকেই এই সংঘটিত যুদ্ধ শুরু হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানি হামলায় সামরিক ঘাঁটিগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পেন্টাগন সর্বনিম্ন ৫ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করছে। যদিও পত্রিকাটির আরেকটি সূত্র দাবি করেছে যে, এই ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সামরিক ঘাঁটিই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়, যার কারণে মিত্রদেশগুলো এই ক্ষয়ক্ষতির কিছু অংশ বহন করতে পারে। পেন্টাগন হয়তো কিছু পরিকাঠামো একেবারেই পুনর্নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিশেষ করে, ওয়াশিংটন কুয়েত এবং সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তা করছে, যাতে তারা ইরানি হামলার নাগালের বাইরে থাকতে পারে। টেকসই শান্তির জন্য তেহরান পূর্বে পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
সূত্র: আরটি
