ইরানের হিট লিস্টে নাম: ভয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন ব্যারন ট্রাম্প
ইরানের হুমকি, বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার আবহে নিজেকে অত্যন্ত সুরক্ষিত বলয়ের মধ্যে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে তার দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করার পাশাপাশি ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান নিজেকে খুব আড়ালে রাখছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন তার গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় মা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ‘ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার’-এ কাটিয়েছেন।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ জানিয়েছে, ‘সে বাইরে বের হয় না।’ অপর এক সূত্র জানিয়েছে, ‘ছেলেটি বেশ একাকী বা আত্মকেন্দ্রিক।’ ব্যারন সবার নজরকাড়া পছন্দ করেন না এবং তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তিনি দ্রুত তার ব্যক্তিগত বাসস্থানে চলে যান বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানান, ‘তাকে আশেপাশে কোথাও ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় না।’
নিউ ইয়র্ক পোস্টের মতে, ব্যারন রক্ষণশীল এক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এবং তার হত্যাকাণ্ড ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। বাবাকে এই খবরটি জানাতে ফোন করে ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে বের হলে এটাই ঘটে।’
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন-পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের নির্বাচনী সভায় গুলিবিদ্ধ হওয়া; ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের গলফ কোর্সে এক আততায়ীর শিকার হওয়া এবং গত ২৫ এপ্রিল ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে’ বন্দুকধারীর হামলার সম্মুখীন হওয়া। এই সহিংসতার পরিস্থিতির মাঝেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের চোখ এড়াতে পারেননি ট্রাম্পের এই কনিষ্ঠ পুত্র।
সম্প্রতি ইরানি চরমপন্থীরা ‘হোয়ার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প’ (কোথায় ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করা যায়) শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ফার্স্ট সানের গতিবিধি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এমনকি তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার (১ কোটি ডলার) ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যারনের মা মেলানিয়া ট্রাম্পও ইরানি চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন; এপ্রিলে করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রেসিডেন্টের পাশে মেলানিয়া ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল সক্রিয়কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিও ব্যারনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল, যার সাথে তার বেশ ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল।
‘আপনি জনসমক্ষে বা বাইরে গেলে এটাই ঘটে,’ বাবাকে এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি দেওয়ার সময় ব্যারন ট্রাম্প প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন। লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের সাম্প্রতিক বই ‘রিজিম চেঞ্জ’-এ প্রথম এই বিষয়টি প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে পোস্ট তা নিশ্চিত করে।
ফার্স্ট লেডির কার্যালয় থেকে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে ইস্ট উইং জানায়, ‘সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তার ব্যক্তিগত জীবনের যেকোনো বিবরণ সমস্ত সংবাদ মাধ্যম থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।’
ফার্স্ট লেডি যে তার ছেলেকে নিয়ে অত্যন্ত সুরক্ষাকামী তা সবারই জানা।
২০২২ সালের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মেয়াদের মধ্যবর্তী সময় পার করছিলেন, যার অর্থ হলো মার্চে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই ব্যারন তার সিক্রেট সার্ভিস সিকিউরিটি কভার হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
