ইসরায়েলি কারাগারে কঠিন পরিস্থিতিতে গর্ভবতী ফিলিস্তিনি বন্দিরা
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে আটক গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের দাবি, গর্ভবতী বন্দিদের জন্য কারাগারে স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এবং পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়েও সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মানার ইব্রাহিম কারাজা গত ৮ জুলাইয়ের পর থেকে কোনো গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারেননি। দুই সন্তানের এই মা আটকের পর থেকে তীব্র চুলকানি ও ত্বকে ক্ষতসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব উপসর্গ স্ক্যাবিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
কারাজার শারীরিক অবস্থার অবনতির আরও একটি দিক তুলে ধরে প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, আটকের আগে তাঁর ওজন ছিল ৬০ কেজি। আটকের ২০ দিনের মধ্যেই তা কমে ৫৪ কেজিতে নেমে যায়। পরে ওজন কিছুটা বেড়ে ৫৭ কেজি হলেও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, কারাগারে দেওয়া খাবারে গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি পর্যাপ্ত নেই। ফলে গর্ভবতী বন্দিদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া আরেক গর্ভবতী বন্দি দানা জুদেহর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাঁর গর্ভাবস্থার নবম মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গর্ভবতী বন্দিদের জন্য জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি মানার কারাজার দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা এবং হাসপাতালে গর্ভকালীন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
