উচ্চ সুদহার প্রভাব ফেলেছে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চ সুদহার ও কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাব ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে চাপে ফেলেছে। এর সঙ্গে তারল্যসংকট, দুর্বল সম্পদমান এবং মূলধন ঘাটতির চাপও অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থবছরজুড়ে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হয়। তবে এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে পড়ে এবং ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আর্থিক খাতে চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চ্যালেঞ্জপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতার বেশ কয়েকটি সূচক দুর্বল অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, প্রভিশন সংরক্ষণে ঘাটতি এবং মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণে ব্যর্থতা ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে দেখা গেছে, অনেক ব্যাংক পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ এবং মূলধন অবস্থান বজায় রাখতে হিমশিম খেয়েছে। ফলে সম্পদমানের অবনতি পুরো ব্যাংকিং খাতেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ব্যাংক নির্ধারিত মূলধন পর্যাপ্ততার হার (ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও) পূরণ করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদহার বজায় থাকায় একদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ঋণের চাহিদা কমেছে, অন্যদিকে অনেক ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ সক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান চাপের মধ্যেও ব্যাংক খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তবে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক খাতে সুশাসন, তদারকি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া মুদ্রানীতি কাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম মধ্যমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলেও প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights