ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকলে বাতিল হবে মনোনয়নপত্র

অনলাইন ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর নেওয়া ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামি এবং সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশনা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি বা পলাতক আসামি, প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কোনো লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি, কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের কোনো কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনের আগে পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ বা কিস্তি বকেয়া থাকলেও প্রার্থীতা বাতিল হবে।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনের আগে সরকারি টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা অন্য কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রতিটি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলফনামা এবং সর্বশেষ করবছরের আয়কর রিটার্নের কপি সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে।

লাভজনক পদের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, অথবা সরকারের শতকরা ৫০ ভাগের বেশি শেয়ার রয়েছে—এমন কোনো কোম্পানির সার্বক্ষণিক কোনো পদে থাকা ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রসহ বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পদত্যাগ করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে তিনটির বেশি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হতে পারবেন না। তিনটির বেশি আসনে মনোনয়ন দাখিল করলে তার সব মনোনয়নপত্র বাতিল হবে।

নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে আরপিও অনুযায়ী, প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে তফসিলি ব্যাংকে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। ব্যক্তিগত ব্যয় ছাড়া সব নির্বাচনসংক্রান্ত ব্যয় ওই হিসাব থেকে পরিশোধ করতে হবে।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২৯ অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী ফরম-২০ এবং প্রার্থীর সম্পদ, দায়-দেনা ও বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের বিবরণী ফরম-২১ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ সময় ১১ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচার চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights