এবার ফিরবে করতোয়ার জৌলুস
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
যুগের পর যুগ মানুষের নানা অনিয়ম, দখল আর দূষণে একসময়ের প্রমত্তা করতোয়া নদী আজ মৃতপ্রায়। শীর্ণ হয়ে পড়া এই ঐতিহাসিক নদীটিকে বাঁচাতে এবার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর পরিবেশগত বিপর্যয় কাটিয়ে করতোয়াকে তার হারানো যৌবন ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে শুরু হবে নদী খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ, যার মধ্য দিয়ে করতোয়া নদীর বুকে আবারও প্রাণের সঞ্চার হওয়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
বগুড়ার উন্নয়নে শুরু হতে যাচ্ছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। এ লক্ষ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদী পুনরুদ্ধার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বাগবাড়ী গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদী পুনঃখনন, করতোয়া নদীর উভয় পাশে ৬ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ও স্লোপ প্রটেকশন, পূর্বপাশে ১৬ কিলোমিটার ৪০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘকাল ফাইলবন্দি থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট ২০০৪ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন করতোয়া নদীর উন্নয়ন ও বগুড়া পৌরসভাকে গ্রিন সিটি ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক রহমান। প্রকল্পটি গ্রহণ করলেও নানা কারণে প্রায় দুই যুগেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক সংগঠনটি সরকার গঠন করলে আলোর মুখ দেখতে শুরু করে লাল ফিতায় বন্দি থাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করতোয়া নদী পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ হলেই খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনে হারানো করতোয়া নদী যৌবন ফিরে পাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর উভয় পাশে দত্তবাড়ী থেকে ভাটকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এ ছাড়া নদীর পূর্বপাশে মাটিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ৪০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে করে শহরের যানজট নিরসন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ কমে আসবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত এক সভায় মাটিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ৪০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব করেছিলেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। প্রকল্প অনুযায়ী সেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এদিকে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, করতোয়া, ইছামতী, ও গজারিয়া নদীর ২৩০ কিলোমিটার পুনর্খননের মাধ্যমে করতোয়া নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। সেই মতো ৯৫ কিলোমিটার করতোয়া নদী পুনর্খনন, ২৮ কিলোমিটার করতোয়া নদী মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বগুড়া মহানগরাংশে ৬ কিলোমিটার নদীর উভয় তীরে স্লোব প্রটেকশনের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া নদীর পূর্বপাশে বসতবাড়ি কম থাকায় মাটিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার ৪০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৯০ জন মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন। বর্ষা মৌসুমে নদীগুলোর আশপাশের এলাকার প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশিত হবে। প্রকল্পের নিম্নাঞ্চল এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমির ফসল জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষা পাবে।
