ওভারটনের ঝড়েও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড, জিতল শ্রীলঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

টিমটিম করে জ্বলতে থাকা জয়ের আশা খানিকটা উজ্জ্বল হয় জেমি ওভারটনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে হাল ধরেছিলেন ইংল্যান্ডের লেজের দিকের ব্যাটার। তবে ২০০ স্ট্রাইকরেটে ১৭ বলে ৩৪ রানের ওভারটনের এই ইনিংস জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শেষ দিকে ম্যাচ জমিয়ে তুলে আউট হওয়ার পরই নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার জয়। কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯ রানে হেরেছে ইংল্যান্ড। স্লো পিচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিক লঙ্কানরা ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭১ রান তোলে।

জবাবে বেন ডাকেটের ফিফটির সঙ্গে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করা রুটের ফিফটিতেও লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনি ইংলিশরা। মিডল অর্ডারে নাটকীয় ধসের ৪৯.২ ওভারে ২৫২ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস। ১২ বলে ২৫ রানের ছোট্ট তবে কার্যকরী ইনিংস খেলার সঙ্গে বল হাতে ৪১ রান খরচ করে দুই উইকেটে নেওয়া দুনিথ ওয়েলালাগে হন ম্যাচসেরা।

এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। আগামীকাল একই ভেন্যুতে বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।

বিদেশের মাটিতে ওয়াডেতে এ নিয়ে টানা ১১ ম্যাচে হারল ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে হ্যারি ব্রুক স্বীকার করেন, শ্রীলঙ্কাই প্রাপ্য জয় পেয়েছে এবং টসের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মিডল ওভারে স্পিনাররা দারুণ বোলিং করেছে এবং সাদা বলের ক্রিকেটে শেষ দিকের ওভারগুলো অনেক সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।

ইংল্যান্ডের রান তাড়া শুরুটাই ছিল টালমাটাল। ওপেনার জ্যাক ক্রলি মাত্র ৬ রান করে ফেরেন—আসিথা ফার্নান্দোর বলে কুসাল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর বেন ডাকেট ও জো রুটের ব্যাটে দারুণভাবেই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিছুটা ধীরগতির শুরু হলেও ডাকেট ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান। অপরপ্রান্তে রুট চিরচেনা ঠান্ডা মাথায় খেলে যান। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১১৭ রানের জুটি।

২৫তম ওভারে ৭২ বলে রুট নিজের ৪৪তম ওডিআই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ওয়াডেতে ৬০০টি চার মারার মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৫ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুট বরাবরই সফল—৩০ ম্যাচে ১,২৩৯ রান, গড় ৬১.৯৫, যার মধ্যে আছে ১০টি অর্ধশতক ও ২টি শতক। এশিয়ার মাটিতে তাঁর রেকর্ডও দারুণ—৩৯ ম্যাচে ১,৬২৭ রান, গড় ৪৯.৩, ১৪টি ফিফটি।

দুই সেট ব্যাটার দ্রুত ফিরে যাওয়ায় পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। প্রথমে ভান্ডারসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৬২ রানে আউট হন ডাকেট। এর পরই আসে টার্নিং পয়েন্ট—সুইপ শট খেলতে গিয়ে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে এলবিডব্লিউ হন রুট। ৯০ বলে ৬১ রান করা রুট বিদায় নিলে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৪/৩।

এই উইকেটের পরই শুরু হয় ভয়াবহ ধস। চাপে ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার। হ্যারি ব্রুক (৬) আসালাঙ্কার বলে মেন্ডিসের হাতে স্টাম্পড হন। এরপর বেটেল (১৫) একইভাবে ওয়েলালাগের বলে স্টাম্পড। স্যাম কারান (৫) ওয়েলালাগের বলেই সহজ ক্যাচ তুলে দেন, আর রেহান আহমেদ (২৭) ভান্ডারসের বলে ওয়েলালাগের হাতে ক্যাচ হন। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ২০৭/৩।

কঠিন উইকেটে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছিলেন জস বাটলার। ১৯ রান করে শেষ পর্যন্ত প্রমোদের স্লোয়ার ইয়র্কারে আউট হন তিনি—তাতে স্কোরবোর্ডে চার রান যোগ হতেই আরেকটি উইকেটের পতন। দলীয় ২১৩ রানে লিয়াম ডসন (২) আউট হওয়ার পর শেষ উইকেট পতন শুধু সময়ের অপেক্ষাই ছিল। তবে ঝড় তুলে সামান্য লড়াইয়ের আভাস দিয়ে ওভারটন আউট হলে নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার জয়।

এর আগে দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা এবং কামিল মিশারার ব্যাটে ভর করে ভালো শুরু পায় লঙ্কানরা। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫০ রান। ৩০ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন নিসাঙ্কা। এরপর শ্রীলঙ্কার রানের গতি কমে যায়। ৩৭ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিয়েছেন মিশারাও। ৫৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা।

তারপর দলের হাল ধরেন তিনে নামা কুশল মেন্ডিস। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন কুশল। চারে নেমে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা খেলেছেন ২১ বলে ১০ রানের ইনিংস। পাঁচে নামা অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও সুবিধা করতে পারেননি। ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।

সাবলীল ব্যাটিংয়ে কুশল করেন ফিফটি। ছয়ে নেমে কুশলের সাথে ভালো জুটি গড়েন জানিথ লিয়ানাগে। কুশল ফিফটি ছুঁয়ে আরও সামনে এগিয়েছেন। লিয়ানাগেও ফিফটির পথে এগিয়েছেন। তবে ফিফটির আগেই নিয়েছেন বিদায়। ৫৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান লিয়ানাগে।

শেষ দিকে পাভেন রাথনায়েকে ১৪ বলে ১২ রান করেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন দুনিথ ভেল্লালাগে। ১২ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে কুশল মেন্ডিস সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও সেঞ্চুরিটা ছুঁতে পারেননি। ১১৭ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন কুশল।

ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন আদিল রশিদ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন স্যাম কারান, লিয়াম ডওসন এবং রেহান আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights