কিংসের দুয়ারে কড়া নাড়ছে আরেক ইতিহাস
মনোয়ার হক
১৯৪৮ সাল থেকে ঘরোয়া ফুটবলের যাত্রা। এখন পেশাদার লিগকে যেমন দেশের ফুটবলে সেরা বা মর্যাদাকর আসর বলা হয়। তখন ঢাকা প্রথম বিভাগ বা পরবর্তীতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে মর্যাদার আসর বলা হতো। ৭৭ বছরের ইতিহাসে ১৪ ক্লাবের লিগ জেতার কৃতিত্ব থাকলেও ২০১৮-১৯ মৌসুমে অভিষেকের পর বসুন্ধরা কিংস যেভাবে ইতিহাস গড়েছে তা অন্য কারোর পক্ষে সম্ভব হয়নি। অভিষেক আসর থেকেই তারা হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছে। অতীতে ওয়ান্ডারার্স, আবাহনী ও মোহামেডান হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলেও অভিষেক আসর থেকে নয়। কিংসই একমাত্র ক্লাব যারা অভিষেক আসর থেকে টানা পাঁচবার লিগ জিতেছে। তা ছাড়া অভিষেকের আট বছরের মধ্যে সব মিলিয়ে তারা লিগ ৫, ফেডারেশন কাপ ৪, স্বাধীনতা কাপ ৩, চ্যালেঞ্জ কাপ দুইসহ ১৪টি ট্রফি শোকেসে বন্দি করেছে। নারী লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ধরলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭। যা অন্য ক্লাবের কাছে স্বপ্ন বলা যায়।
এমন অর্জনের পরও থমকিয়ে যায়নি কিংস। বরং বসুন্ধরা কিংসের দুয়ারে আরেক ইতিহাস কড়া নাড়ছে। যাকে অপেক্ষা বললেও ভুল হবে না। হ্যাঁ, চলতি পেশাদার লিগে কে চ্যাম্পিয়ন হবে তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এ ক্ষেত্রে কিংসেরই সম্ভাবনা বেশি, তা বললেও ভুল হবে না। ১০ ক্লাবের অংশ নেওয়া লিগে সবারই ছয়টি করে খেলা শেষ হয়েছে। আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে সপ্তম রাউন্ডের খেলা।
ছয় ম্যাচের মধ্যে প্রথমটি নবাগত পিডব্লিউডির সঙ্গে ড্র করলেও পরবর্তীতে টানা পাঁচ ম্যাচই জিতেছে কিংস। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলে শীর্ষে রয়েছে। পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ফর্টিস এফসি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে রহমতগঞ্জ তিনে। আট পয়েন্টে ঢাকা আবাহনীর অবস্থান চারে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান, পুলিশ এফসি ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন সমানভাবে সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
প্রথম লেগে তিনটি করে ম্যাচ বাকি রয়েছে সবারই। কিন্তু আরেক ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়া কিংস যে প্রথম লেগে সবার ওপরে থাকবে তা অনেকটা নিশ্চিত। প্রশ্ন উঠতে পারে ফর্টিস বা রহমতগঞ্জও তো কিংসকে টপকিয়ে প্রথম লেগে শীর্ষে থাকতে পারে। হতে পারে তখন তো আবার কিংসকে অন্তত দুই ম্যাচ হারতে হবে। ফর্টিস ও রহমতগঞ্জকে দুটি করে ম্যাচ জিততে হবে। অঙ্কটা যতটা সহজ বাস্তবে তা মেলানো কঠিন। আজ আবাহনী তাদের সপ্তম ম্যাচ খেলবে পিডব্লিউডির বিপক্ষে। অন্যদিকে রহমতগঞ্জ-ব্রাদার্স ইউনিয়ন মুখোমুখি হবে। আবাহনী জিতলে পয়েন্ট হবে ১১ আর রহমতগঞ্জের ১৩। আবার ব্রাদার্স জিতলে অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে ১০ পয়েন্ট।
দ্বিতীয় লেগে কিংসের বাকি আছে পুলিশ, আবাহনী ও ইয়ংমেন্স ফকিরাপুলের বিপক্ষে খেলা। ফুটবল অঘটনের খেলা হলেও এতটা অনিশ্চিত না যে, কিংস টানা তিন ম্যাচ হেরে বসবে। বড় খেলা বলতে আবাহনীকেই ধরা যায়। এখানে যদি হার বা ম্যাচ ড্র-ও হয়। তখন তো দুই ম্যাচ জিতলে কিংসের পয়েন্ট দাঁড়াবে ২২। লিগে অতীতে পুলিশের কাছে হারের রেকর্ডও রয়েছে কিংসের। কিন্তু কিংস যে কিংরূপ ধারণ করেছে তাতে কি অঘটন ঘটার শঙ্কা রয়েছে? আগামীকাল কিংস অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে পুলিশের বিপক্ষে। অন্যদিকে মোহামেডানের প্রতিপক্ষ আরামবাগ। ফর্টিসের সামনে ফকিরেরপুল।
আসলে যতই ফর্টিস বা রহমতগঞ্জ বা অন্য কারোর কথা বলা হোক। শেষ পর্যন্ত কিংসের কাছে বড় ফ্যাক্টর হবে আবাহনী বা মোহামেডান। এর মধ্যে আবাহনী ১০ ও মোহামেডান ১১ পয়েন্ট হারিয়ে বসে আছে। এটাই কিংসের বড় প্লাস পয়েন্ট। সত্যি বলতে কী তপু বর্মণরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাদের থামানোটা মুশকিল। কিংস এবার চ্যাম্পিয়ন হলে যৌথভাবে পেশাদার লিগে সর্বোচ্চ ছয়বার ট্রফি ঘরে তুলবে। যে রেকর্ড শুধু ঢাকা আবাহনীর। এ ছয় দিয়ে আবার বিরল রেকর্ড গড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০ বার লিগ জেতার রেকর্ড ঢাকা মোহামেডানের। আবাহনী ১৭ আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ছয় শিরোপা ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের। সেই রেকর্ডে এবার ভাগ বসাতে পারে কিংস। তা হবে লিগ ইতিহাসে স্বল্প সময়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়। অভিষেকের পর ওয়ান্ডারার্সের ষষ্ঠ শিরোপা জিততে সময় লাগে ১২ মৌসুম। কিংস সেখানে আট মৌসুমেই ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হবে। অভিষেকের পর মোহামেডান ষষ্ঠ শিরোপা জিতেছিল ১৯ মৌসমে। আর আবাহনীর ১৩ মৌসুমে।
