কুমিল্লায় ট্রেন লাইনচ্যুত: আহত ৩০, তদন্ত কমিটি গঠন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন তিন শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনার পর ট্রেনে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাঙ্গলকোটের নাওটি স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ট্রেনে থাকা একাধিক যাত্রী জানান, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের পর ট্রেনটি নাঙ্গলকোট স্টেশন ছেড়ে যায়। অন্য সময়ের তুলনায় সেদিন ট্রেনটির গতি বেশি ছিল। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে কয়েকজন মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। কারও কারও মাথা ফেটে যায়।
যাত্রী নাহিদা আক্তার বলেন, ‘চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ তীব্র শব্দ হয়। এরপর একজনের গায়ে আরেকজন কাত হয়ে পড়ে যান। কয়েকজন পদদলিত হন। তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে দেখি, ধোঁয়া বের হচ্ছে।’
আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রেনে থাকা তিন শতাধিক যাত্রী বিভিন্ন পরিবহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটির পাঁচটি অক্ষত বগি নাঙ্গলকোট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লাইনচ্যুত চারটি বগি ও একটি ইঞ্জিন উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন আসছে। উদ্ধারকাজ শেষে সেগুলোও স্টেশনে নেওয়া হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। বিকল্প লাইন চালু থাকায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
