জবির নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহ

জবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ ও অনুদান প্রদান করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১তম আবর্তন হিসেবে পরিচিত।

উদ্যোক্তারা জানান, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে এ তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সংগৃহীত অর্থ পরবর্তীতে দেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তা বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

জানা যায়, ২১তম আবর্তনের আইন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথমে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরে দর্শন, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে আবর্তনের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়ক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমদ সিয়াম বলেন, “বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। তবুও ২১তম আবর্তনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বন্যার্তদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। সংগ্রহ করা অনুদান একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।”

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউর রহমান রিজভী বলেন, “নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে পদার্পণের পরই এমন একটি মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির সম্পর্কও আরও সুদৃঢ় হয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও দেশের কল্যাণে ২১তম আবর্তন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”

সমাজকর্ম বিভাগের রেদওয়ান বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম আবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে চট্টগ্রামের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি।”

দর্শন বিভাগের ফারিহা বলেন, “এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে বয়স কিংবা অভিজ্ঞতা নয়, আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের ব্যাচ যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে, তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

এ উদ্যোগের প্রশংসা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীরা যে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা একজন সচেতন নাগরিকের পরিচায়ক। তাদের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অন্যদের মানবিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, লোকপ্রশাসন, ইংরেজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মনোবিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ভূগোল ও পরিবেশ, প্রাণিবিদ্যা, সমাজকর্ম, আইএমএল, আইইআর, পরিসংখ্যান, রসায়ন, বাংলা, অর্থনীতি, আইন ও ভূমি প্রশাসন, গণিত, সঙ্গীত এবং ইতিহাস বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ফটকেও অনুদান সংগ্রহ করা হয়।

তাদের মতে, বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ২১তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাও ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন এই আবর্তন মানবিক, সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights