জরিপ ভুয়া, তাকে হারানোর সাধ্য কারো নাই দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রেটিং কম দেখা গেলেও নিজের প্রকৃত জনসমর্থন ৬০ শতাংশের কাছাকাছি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াশিংটন এক্সামিনার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক ও বর্তমান জনমত জরিপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর গড় তথ্য অনুযায়ী মাত্র ৩৮.৮ শতাংশ নাগরিক তার কাজে সন্তুষ্ট; এমন পরিসংখ্যানের জবাবে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, জরিপের এই পরিসংখ্যান কাল্পনিক এবং নির্বাচনে তাকে হারানোর ক্ষমতা কারও নেই। নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণের স্বপক্ষে তিনি রিপাবলিকান পার্টির ভোটার এবং বিশেষ করে ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থক গোষ্ঠীর অটুট সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ের প্রধান প্রধান জনমত জরিপগুলোতে একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে তার কাজের প্রতি অসন্তোষ দেখা গেছে ৬৫ শতাংশের, যেখানে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে তার সমর্থনে হার নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপেও ট্রাম্পের সন্তুষ্টির হার ৩৪ শতাংশে আটকে থাকতে দেখা গেছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ১৯৪৬ সালের পর কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন জনসমর্থনের রেকর্ড।

এর মাঝে জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েজউড রিসার্চের কৃত্রিম বা মনগড়া তথ্য সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক ট্রাম্পের এই জরিপবিরোধিতাকে কিছুটা হাওয়া দিয়েছে। যদিও প্রকাশকদের দাবি, তাদের গড় পরিসংখ্যানে বিতর্কিত জরিপগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এনটেনের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ‘মাগা’ সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন এখনও ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশের মতো শক্তিশালী। সিএনএনের এই অংশটুকুর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো যদি কেবল এই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে, তবে তিনি তাদের আরও পছন্দ করবেন।

কিন্তু এনটেনের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের সার্বিক অবস্থার সংকট স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে, দলীয় সমর্থকদের কাছে বিশাল জনপ্রিয়তা বজায় থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে টানা নিম্নমুখী জনসমর্থন আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প ও তার দলের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights