ট্রাম্প-জেলেনস্কি দ্বন্দ্বের মাঝে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ, বিপাকে ইউক্রেন
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দেশটি এখন অত্যন্ত অরক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলে সিএনএনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে প্রকাশ্য বিবাদ যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই এই আশঙ্কাজনক খবরটি সামনে এলো। সম্প্রতি রুশ ডিজেল আমদানির জন্য হোয়াইট হাউস একটি অত্যন্ত বিতর্কিত চুক্তি করে এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই চুক্তিকে নিজের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করছেন জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে।
কয়েক মাস ধরেই জেলেনস্কি বারবার সতর্ক করে আসছিলেন যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট চরম আকার ধারণ করছে। কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক সরবরাহও সীমিত। কারণ, ইরানের যুদ্ধ ঘিরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যান্য দেশগুলোও নিজেদের মজুত ব্যবহার করেছে অথবা নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ব্যস্ত রয়েছে।
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার ছোঁড়া প্রায় সবকটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। ওই হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও খারকিভের শক্তি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চারজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছিল যে, ওই হামলায় তারা চারটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, যার অর্থ তারা তাদের শেষ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহার করে ফেলেছে।
ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিল সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সে সময়ই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা প্রকাশ করেছিলেন যে, তাদের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র একপ্রকার শেষ হয়ে এসেছে। জেলেনস্কি সে সময় জানান, মিত্রদের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট পাওয়ার আশায় তিনি দিনে লাখ লাখ টেলিফোন কল করছেন, তবে ইউক্রেনের কাছে মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর রয়েছে। পরবর্তীতে জেলেনস্কি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে ইউক্রেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাবে। কিন্তু ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছেন কিনা তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং লাইসেন্সও আর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের মার্কিন প্রস্তাবের পর ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি কঠোর সুর তুলে বলেন, ইউক্রেনকে ন্যূনতম শর্তে আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর দেওয়া হলেই কেবল তারা রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, যখন তিনি আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানান, তখন আমেরিকার উত্তর ছিল স্টারলিংকের সেবা দুর্বল করে দেওয়া।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আবারও আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, শক্তি, ন্যায়বিচার এবং আক্রমণকারীর ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার সব কার্যকর ও প্রয়োজনীয় হাতিয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। আমরা ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্যাকেজ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
সূত্র: সিএনএন
