ডেঙ্গু প্রতিরোধে জবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ১০ দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা। ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রতিদিনই সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার, লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনটির সদস্যরা। এ পর্যন্ত বাহাদুর শাহ পার্ক, টিএসসি, বাংলাবাজার, সদরঘাট, লঞ্চঘাট, কেরানীগঞ্জ, পাটুয়াটুলী, রায়সাহেব বাজার, শাঁখারী বাজার, লক্ষী বাজার, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল, বাংলাবাজার স্কুল ও পোগোজ স্কুল এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব এলাকায় পথচারী, দোকানি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতন করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন।

কর্মসূচিতে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পানি জমতে পারে এমন পাত্র ঢেকে রাখা এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সচেতন করছেন।

কর্মসূচি সম্পর্কে বাংলাবাজার স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমার বাসার ছাদে কয়েক দিন আগে গাছ লাগিয়েছি। টবে পানি দিয়ে আসছিলাম। ছাদে যাব যাব করে আর যাওয়া হয়নি। এখন নিশ্চয়ই বৃষ্টিতে পানি জমে গেছে। ওদের কথা শুনে মনে পড়ল, ডেঙ্গু আসলে আমাদের সচেতনতার অভাবেও এত ব্যাপক আকারে ছড়াচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। তারা এত কষ্ট করে মানুষের কাছে গিয়ে সচেতন করছেন, আবার লিফলেটও দিচ্ছেন। এগুলো বাসায় নিয়ে রাখলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পড়বেন। এভাবে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গেটম্যান আনিছ মিয়া বলেন, ‘আমরা বেশি লেখাপড়া করিনি, অনেক কিছুই জানি না। ভাইয়েরা এসে আমাদের লিফলেট পড়ে শুনিয়েছেন। অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এখন থেকে এসব বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করব।’

পোগোজ স্কুলের শিক্ষার্থী ফাহিমা কানিজ বলে, ‘আমরা অনেক সময় মোবাইল বা টেলিভিশনে ডেঙ্গু সম্পর্কে দেখি, কিন্তু তখন এত মনোযোগ দিয়ে শুনি না। ভাইয়া-আপুরা সামনে এসে লিফলেট দিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলায় মনোযোগ দিয়ে শুনতে পেরেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্কুলের পাশে হওয়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের আরও অনেক কাজ করতে দেখি। তবে এই কাজটি আমার কাছে খুব সুন্দর ও সময়োপযোগী মনে হয়েছে। সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সামিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের সংগঠন শুরু থেকেই সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। শুভসংঘের সব সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন। আমরা আশা করি, এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে আমাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারব, যা সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

শাখার নির্বাহী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রিফাত বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং তরুণ সমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই আমাদের এ উদ্যোগ। আমরা চাই, মানুষ শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের অন্যদের সুরক্ষার জন্যও সচেতন হোক।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ জবি শাখার সভাপতি রাসেল সেখ বলেন, ‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পেরেছি বলে আমরা আশাবাদী। ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চায়। আমাদের বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। আমরা একটি সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যেতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights