ঢাকায় তিন বস্তি এলাকার পুনর্বাসনে সহায়তা করবে চীন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তি এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আধুনিক আবাসন প্রস্তাব ইআরডির মাধ্যমে চীনের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নে সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশতলা ভবনে ছোট ছোট ইউনিট আকারে ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এসব ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা বিনা ভাড়ায় থাকবেন, শুধুমাত্র গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

পরে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের বিষয়ে চীনের সম্মতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বস্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে চীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমইসি’ এর মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলছে। ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে এর চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহারের জন্য ‘পাওয়ার চায়না’ নামক প্রতিষ্ঠানের সাথেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে ঋণ বা অনুদান আকারে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকাকে স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি ভবন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে নেটিং মিটারের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে চীন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যোগ করেন তিনি।

বন্দরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোংলা পোর্টের উন্নয়নেও কাজ করবে চীন। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের কথা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। মোংলা পোর্টের সাথে চিটাগং পোর্টের একটা লিংকেজও তারা করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights