দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে কিডনি বিক্রি, নেপালের এক গ্রামের করুণ গল্প

অনলাইন ডেস্ক

হিমালয়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে জামা তুলে শরীরের বড় ক্ষত দেখালেন কাঞ্চা ও রাম। দুজনেরই বয়স চল্লিশের কোঠায়। অর্থকষ্ট তাদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল। অস্ত্রোপচারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কাঞ্চা এখনো ব্যথায় ভুগছেন। কাজও করতে পারেন না।

নেপালের হোকসে গ্রাম ‘কিডনি ভ্যালি’ নামে পরিচিত। কারণ এখানকার প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কিডনি বিক্রি করেছেন। বছরের পর বছর দালালরা এখানে এসে মানুষকে কিডনি বিক্রিতে রাজি করিয়েছেন। যদিও এভাবে অঙ্গ বিক্রি বেআইনি।

স্থানীয়দের কেউ বলেন, তাদের শোষণ করা হয়েছে। আবার কয়েকজনের দাবি, কিডনি বিক্রির পর সেটি আবার গজাবে বলেও তাদের বোঝানো হয়েছিল। এর পরিণতিতে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।

৩১ বছর বয়সী সুমন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে একসময় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। পরে ভারতে গিয়ে এক নারীর ‘ভাই’ সেজে তাকে কিডনি দেন। বিনিময়ে পান তিন হাজার পাউন্ড। অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখন কাজ করতে পারেন না। অন্যদের কিডনি বিক্রি না করার পরামর্শ দেন তিনি।

কাঞ্চাও ভারতে কিডনি বিক্রি করেছিলেন। তার দাবি, কাঠমান্ডুতে দালালরা ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরি করেছিল। কিডনি দেওয়া হয়েছিল তার ‘ভুয়া বোনকে’।

তবে হোকসের বাসিন্দাদের দাবি, এখন আর সেখানে কেউ কিডনি বিক্রি করেন না।

এর মধ্যেই নেপালে দেখা দিয়েছে নতুন কিডনি-সংকট। জীবিকার জন্য উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় যাওয়া অনেক তরুণ কিডনি বিকল হয়ে দেশে ফিরছেন। বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতা এর কারণ হতে পারে।

সৌদি আরবে তিন বছর কাজ করা জিত বাহাদুর গুরুং মাত্র ২৯ বছর বয়সেই সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, প্রায় ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাজ করেও পানি পান বা বিশ্রামের পর্যাপ্ত সুযোগ পেতেন না।

নেপালের চিকিৎসক পুকার শ্রেষ্ঠ জানান, বর্তমানে দেশটির মোট কিডনি প্রতিস্থাপনের ৩০ শতাংশের বেশি রোগী বিদেশফেরত শ্রমিক। অথচ বিদেশে কর্মরত মানুষ নেপালের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ।

চিকিৎসকদের মতে, বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকিও বাড়ছে। সূত্র: স্কাই নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights