দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দুদকের অভিযান, সংগ্রহ করেছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেও বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
স্কুল পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের নাম ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন, পাঠদানের অনুমতি ও নবায়ন এবং স্বীকৃতি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ গ্রহণ, সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আতাউর রহমান সরকার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পরিদর্শন, নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্কুল পরিবর্তন ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শন শাখাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে স্থানান্তর বা স্কুল পরিবর্তনের আবেদনের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণ এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্কুল পরিবর্তনের অনুমোদন, নাম ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে অভিভাবকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন, পাঠদানের অনুমতি প্রদান ও নবায়ন, স্বীকৃতি এবং এমপিও-সংক্রান্ত কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংশোধন নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি ফি যথাযথভাবে আদায় ও জমা দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে লেনদেন হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে প্রকৃত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
দিনাজপুর দুদক উপ-পরিচালক আরো বলেন,
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ, সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁদের কারও কারও সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তা নির্ধারণ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক ইমরান হুসাইন, উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন।
