দুর্লভ ধূসর ডানাকালো দামা

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

দূর থেকে দেখলে মনে হবে শালিক। কিন্তু না, এরা ধূসর ডানাকালো দামা পাখি। অত্যন্ত দুর্লভ এ পাখিটি আমাদের দেশের পরিযায়ী ভূচর পাখি। হিমালয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পার্বত্য বনাঞ্চলে এদের আবাস। সাধারণত শীতে আমাদের দেশে আসে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, তিব্বত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি রয়েছে। অঞ্চল ভেদে পাখিটি ‘ধলাপাখ কালি দামা’ নামেও পরিচিত। সম্প্রতি হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে এই দুর্লভ পাখির ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ। ধূসর ডানাকালো দামা পাখি লম্বায় ২৭ থেকে ২৯ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির মাথা, ঘাড়, পিঠ ও লেজ আঁশটে কুচকুচে কালো। ডানার প্রান্ত পালক কালো, মধ্যখানে ধূসর সাদা। দেহতল কালো হলেও পেটের দুই পাশে সাদা ছিট রয়েছে। চোখের বলয় হলদেটে। ঠোঁট ও পা কমলা-হলুদ। আর স্ত্রী পাখির মাথা ও পিঠ ধূসর বাদামি। চোখের বলয় কালচে। ঠোঁট ও পা পুরুষ পাখির মতো উজ্জ্বল হলুদ নয়। সুচালো চিরহরিৎ বনে এদের আবাস। এ ছাড়া পাথুরে এলাকায়ও এদের বিচরণ রয়েছে। দেশে যত্রতত্র দেখা যায় না। পরিত্যক্ত বা স্যাঁতসেঁতে এলাকার লতাপাতা উল্টিয়ে খাবার খোঁজে। বেশির ভাগই একাকী বিচরণ করে। পুরুষ পাখির তুলনায় স্ত্রী পাখি নিষ্প্রভ।

স্ত্রী পাখি দেখতে কিছুটা কাঠশালিকের মতো। শুকনো ঝোপঝাড়, জঙ্গল এবং গ্রামের আশপাশে থাকে। বনের তলদেশে নিরিবিলি খাবার খোঁজে। এদের প্রধান খাবার পোকামাকড় ও লার্ভা। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এদের প্রজনন সময়, তবে মধ্য এপ্রিল থেকে জুলাই হলো মূল প্রজনন সময়। হিমালয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উঁচু বনভূমিতে প্রজনন করে। এ সময় গাছের ডালে বা শিকড়ের কাছে খড়, পাতা, কাদা ও শ্যাওলা দিয়ে বাটি আকৃতির বাসা বাঁধে। দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। এরা এক মৌসুমে সাধারণত দুবার বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে। ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ বলেন, এটি বাংলাদেশে একটি অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি। হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মতো চিরসবুজ বা মিশ্র বনে এদের দেখা যায়; তবে খুব একটা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights