পাবনায় গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, পরে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে দিনদুপুরে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার পরিবারকে তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৬০) প্রতিবেশী রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে যান। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি রাকিবুলের স্ত্রীকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। গৃহবধূর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মফিজ উদ্দিনকে আটক করে গণধোলাই দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনার দুই দিন পর বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

ওই গৃহবধূ বলেন, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। তাকে একা পেয়ে মফিজ উদ্দিন অশ্লীল কথাবার্তা বলেন এবং একপর্যায়ে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে মফিজ উদ্দিনের মেয়ে চুমকি খাতুন বলেন, আমার বাবা অন্যায় করে থাকলে প্রচলিত আইনে বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।

মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী বলেন, নারীঘটিত বা ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সরাসরি কিছু করার থাকে না। তবে কাউকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম বা হুমকি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাবনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলে ইলাহী বলেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগে মফিজ উদ্দিনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights