প্রক্টরের কাছে আবেদনে নিরাপত্তা চেয়ে আট শিক্ষার্থীর বহিষ্কার দাবি অর্ঘ্য-চন্দনের

জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানহানি ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ এনে আট শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার দাস।

রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে তারা এ দাবি জানান।

আবেদনে অর্ঘ্য ও চন্দন দাবি করেন, বর্তমানে তারা ক্যাম্পাসে জীবন শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। গত ২৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে আয়োজিত প্রথম সাধারণ সভায় ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মন্দিরের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন।

আবেদনে তারা বলেন, সভা চলাকালে ২০তম ব্যাচের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায় এবং ১৯তম ব্যাচের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যয় ও শুভ নাথের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তারা উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বাসায় ফিরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজেদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ দেখতে পান। তাদের দাবি, যেসব ঘটনার সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত নন, সেসব বিষয়েও তাদের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়েছে।

এছাড়া আবেদনে চন্দন কুমার দাস অভিযোগ করেন, ২৭ জুন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধর করেন। এ ঘটনার জন্য তিনি জবি সমাজকর্ম বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়কে প্ররোচনাদাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এছাড়াও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয় সাহা। এছাড়া শের আলী (আইএমএল), তামিম বিন সুলতান (সমাজকর্ম), কাব্য (ইতিহাস) এবং আলিমুল (লোক প্রশাসন) হামলায় অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।

নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অর্ঘ্য ও চন্দন আবেদনে বলেন, এসব ঘটনার কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ বোধ করছেন না। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অমৃত রায়, ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৃজন সাহা, সমাজকর্ম বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয় সাহা, আইএমএল বিভাগের শের আলী, সমাজকর্ম বিভাগের তামিম বিন সুলতান, ইতিহাস বিভাগের কাব্য এবং লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুলের স্থায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights