প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে কিয়েভে বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজধানী কিয়েভে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইভান ফ্রাঙ্কো ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, লভিভ, ওডেসা ও দিনিপ্রোসহ আরও কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দেন এবং ‘রাশিয়ানরা উদযাপন করছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তারা প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কাছেই বিক্ষোভ করেন। গত বছরের জুলাইয়ে ওই স্থানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বহুল আলোচিত ‘কার্ডবোর্ড প্রতিবাদ’। ওই আন্দোলনের মুখে জেলেনস্কি সরকার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সীমিত করার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল।
বিদায়বার্তায় ফেদোরভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনের জনগণের সেবা করতে পারাকে ‘বড় সম্মানের’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি তার দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল রুশ বাহিনীর জন্য স্টারলিংক সেবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করা এবং চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা।
৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ ফেদোরভ এর আগে ইউক্রেনের প্রথম ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তথ্যনির্ভর কৌশল প্রয়োগে তার ভূমিকার জন্য তিনি প্রশংসিত হন।
সমর্থকদের দাবি, প্রতিরক্ষা খাতে ক্রয় প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনের একটি অংশের বিরাগভাজন হয়েছিলেন তিনি। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, সেনা নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি প্রত্যাশিত গতি দেখাতে পারেননি।
কেন এই পরিবর্তন?
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তিনি চান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক নেতৃত্ব আরও সমন্বিতভাবে কাজ করুক। তার এই বক্তব্যকে ফেদোরভ এবং সরকারের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ফেদোরভের বিদায়ের পর বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট নতুন যুদ্ধকালীন সরকার অনুমোদন করে। এটি এক বছরের মধ্যে জেলেনস্কির দ্বিতীয় বড় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ। সূত্র: আল-জাজিরা
