প্রথমবার মৃত্যু না হলে, দ্বিতীয় দফায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ৩৯ শতাংশ মার্কিনি

অনলাইন ডেস্ক

কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সরকারের উচিত আবার তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করা, এমনটাই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনজনের একজন নাগরিক। টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিতে গিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের পর পরিচালিত এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা অবশ্য মনে করেন, প্রথম প্রচেষ্টায় মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হলে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে বরং আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করতে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, কোন পথটি গ্রহণ করা সুবিধাজনক হবে সে বিষয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই আলোচনাটি সামনে এসেছে। গত মাসে ন্যাশভিলে ৫০ বছর বয়সী দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ক্রিস্টা পাইককে পরপর দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি বেঁচে যান। এরপর থেকেই বেঁচে যাওয়া বন্দিদের ওপর দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের চেষ্টা চালানো যৌক্তিক কি না, তা নিয়ে পুরো দেশজুড়ে এক ধরনের নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা বিবরণ অনুযায়ী, মাত্রাতিরিক্ত ব্যথানাশক পেন্টোবার্বিটালের দুটি সিরিঞ্জ প্রয়োগের পরও যখন তিনি মারা যাননি, তখন অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় এবং বাহুতে গুরুতর ক্ষত নিয়ে এই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাটি ঘটার পর তিনি প্রায় টানা পাঁচ দিন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং এর পরেই কেবল তার জ্ঞান ফিরে আসে। উল্লেখ্য, চলতি বছরেই টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় এ ধরনের ভয়াবহ ত্রুটি পরিলক্ষিত হলো।

বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড প্রথা সম্পূর্ণরূপে রদ বা বাতিল করা হয়েছে। আর যেসকল অঙ্গরাজ্যে এখনো এই দণ্ডটি বহাল রাখা হয়েছে, সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধসংকট তীব্র রূপ ধারণ করায় বিকল্প হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো পুরোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করার বিষয়টিও অনেকে ভেবে দেখছেন। সামগ্রিকভাবে, রয়টার্স/ইপসোস-এর জরিপে দেখা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ এখনো জঘন্য অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন, যা ২০১৭ সালে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে ছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ, মানুষের মাঝে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে সমর্থনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা সরাসরি মৃত্যুদণ্ড প্রথার তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং প্রায় ১৩ শতাংশ নাগরিক তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য জানাননি বা উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর কোনো অঙ্গরাজ্য দ্বিতীয়বার সেই বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে কি না, সে সম্পর্কিত আইনি লড়াই শুরু হওয়ার ফলে পুরো বিষয়টি এখন আরও সংবেদনশীল মোড় নিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি অঙ্গরাজ্যকে তাদের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ডের সময়সূচি নির্ধারণের পক্ষে আইনি সম্মতি প্রদান করেছিলেন। ঘটনাটি ছিল ১৯৮৮ সালের এক চুক্তিবদ্ধ হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত কেনেথ স্মিথকে নিয়ে। ২০২২ সালে আলাবামার এক্সিকিউশন চেম্বারে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তার শিরায় রক্তনালীর লাইন সঠিকভাবে স্থাপন করতে না পারায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হয়। তবে পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আলাবামা অঙ্গরাজ্য সম্পূর্ণ নতুন এবং বিকল্প একটি পদ্ধতি হিসেবে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে সফলভাবে দ্বিতীয় চেষ্টায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনলাইনের মাধ্যমে আয়োজিত এই রয়টার্স/ইপসোস জরিপে ১৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক সরাসরি অংশ নেন। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থার তথ্যমতে, প্রাপ্ত ফলাফলে ভুলের সম্ভাব্য মাত্রা বা মার্জিন অফ এরর রাখা হয়েছিল ২ শতাংশ পয়েন্ট।

সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights